মস্কোয় দুই হিউম্যানয়েড রোবটের জমকালো বিয়ে সম্পন্ন

১৩ জুলাই, ২০২৬

উন্নত রোবোটিক্স প্রযুক্তির সক্ষমতা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর একীভূতকরণের সম্ভাবনা প্রদর্শনের লক্ষ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় এক নজিরবিহীন বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। 

সেখানকার পুশকিন লাইব্রেরিতে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘রবার্ট’ ও ‘মাটিল্ডা’ নামের দুটি হিউম্যানয়েড (মানবমুখী) রোবট প্রতীকীভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। 

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর ‘রবার্ট’ একজন অফিস কর্মী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং কনে ‘মাটিল্ডা’ পেশায় একজন হিউম্যানয়েড ড্যান্সার (নৃত্যশিল্পী)। এর আগে ২০২৬ সালের সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে এই রোবটদ্বয়কে প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সামনে আনা হয়েছিল। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থাপিকা মারিয়া পান্তিউখিনা ঘোষণা করেন, ‘আজ আমরা একটি অনন্য ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছি—হিউম্যানয়েড রোবট রবার্ট এবং মাটিল্ডার মধ্যে প্রথম বিবাহ অনুষ্ঠান। তারা কেবল আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমেই যুক্ত নয়, বরং জ্ঞান অন্বেষণ, উন্নয়ন এবং সহযোগিতার মতো অভিন্ন মূল্যবোধের দ্বারাও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।’ 

বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালীন রোবট দুটি পূর্ব-প্রোগ্রামকৃত পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির বাণী (বিয়ের শপথ) বিনিময় করে। রবার্ট মাটিল্ডাকে আশ্বস্ত করে বলে যে, সে জীবনের সমস্ত ‘অ্যালগরিদম’ জুড়ে তার এক বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে থাকবে। 

অন্যদিকে, মাটিল্ডা রবার্টকে নতুন নতুন আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা দেওয়ার এবং সময়ের প্রতিটি ‘চক্র’ জুড়ে তাদের এই সংযোগ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। 

প্রতীকী আংটি বিনিময়ের সময় রোবট যুগলের পোষা প্রাণী বা ম্যাসকট হিসেবে হাজির হয় ‘ডগমাটিক’ নামের একটি রোবট কুকুর। সে নিজেই নবদম্পতির কাছে বিয়ের ব্রেসলেটগুলো পৌঁছে দেয়। 

অনুষ্ঠান শেষে রোবট দুটির ‘সিস্টেমের সংস্করণ সামঞ্জস্যতা (ভার্সন কমপ্যাটিবিলিটি), সিস্টেম সিনক্রোনাইজেশন এবং উভয় পক্ষের সম্মতি’ নিশ্চিত করার পর উপস্থাপিকা আনুষ্ঠানিকভাবে রবার্ট ও মাটিল্ডাকে ‘রোবট দম্পতি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। 

রোবট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আইটি-ইম্পেরিয়াল-এর ডেপুটি সিইও আনা বাগদাসারিয়ান বলেন, এই ধরনের আয়োজন হিউম্যানয়েড রোবোটিক্সের জটিল ও উন্নত দিকগুলো সবার সামনে তুলে ধরতে এবং এই প্রযুক্তি কীভাবে মানুষকে সাহায্য করতে পারে তা প্রদর্শন করতে সাহায্য করে।

বাগদাসারিয়ান আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘উত্তর-শিল্পায়িত সমাজে কাজের স্বয়ংক্রিয়করণ বা অটোমেশন মানুষের সময় ও সামর্থ্যের একটি বড় অংশকে সাশ্রয় করতে পারে। ফলে মানুষ সংস্কৃতি চর্চা এবং নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আরও বেশি সময় দিতে পারবে। রোবোটিক্স মূলত এই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করতে অবদান রাখছে।’