দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি হবে: অর্থমন্ত্রী

১৩ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে গিয়ে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‍“অতীতের মতো জনস্বার্থবিরোধী কোনো শর্তে সরকার রাজি হবে না। দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।”

রবিবার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করে। বাংলাদেশে সংস্থাটির মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে এই মিশন চলতি সপ্তাহজুড়ে অর্থনীতি, রাজস্ব, বাজেট, সামাজিক নিরাপত্তা ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ঋণ নেওয়া নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।”

তিনি বলেন, “আগের সরকারের নেওয়া আইএমএফ কর্মসূচি দেশের জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই নতুন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করছে।”

সরকার তিন বছর মেয়াদি নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মসূচির জন্য চিঠি দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক বাস্তবতা এখন পরিবর্তিত হয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে, সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না; বরং ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মতভাবে তা বাস্তবায়নের পক্ষে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছিল। ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। সেই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেলেও ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর শেষ পর্যন্ত পুরো কর্মসূচিই বাতিল হয়।

রবিবারের বৈঠকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) কর্মসূচিও গুরুত্ব পায়। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য কাঠামো, শর্ত এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল।

এ ছাড়া বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, রাজস্ব আহরণ, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এবং মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন কর্মসূচি আগের মতো কঠোর শর্তনির্ভর না হয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।