সানার বিমানবন্দরে ইয়েমেন সরকারের হামলা

১৪ জুলাই, ২০২৬

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। ইরানের একটি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ হামলা চালিয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার বলেছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ারা রাজধানী সানার বিমানবন্দরে ইয়েমেনের একটি বিমান অবতরণে বাধা দেয়। এমনকি তারা ইরানের একটি বিমানকে ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবতরণের সুযোগ করে দিতে চাপ দেয়। এ কারণে বিমানবন্দরের রানওয়েকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সমর্থনপুষ্ট সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেন নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিক, শ্রমিক, কূটনৈতিক মিশন এবং মানবিক সংস্থাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল।

রানওয়েতে হামলার ঘটনায় সৌদি আরবকে দায়ী করে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। তবে গোষ্ঠীটি  দাবির পক্ষে কোনো ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক সতর্কবার্তায় বলেন, এই হামলার বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে গত তিন দিনে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩০০টির বেশি স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে মার্কিন বাহিনী। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, গত তিন দিনের মধ্যে শনিবার সবচেয়ে বড় পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে। সেদিন ইরানের সামরিক বাহিনীর ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

হামলার শিকার স্থাপনাগুলোর মধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, গোলাবারুদের ডিপো, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় এলাকার নজরদারি-সংক্রান্ত স্থাপনা রয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম বলেছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যে হামলা পরিচালনা করেছে, তার জবাবে তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা