হুইপের কণ্ঠ নকল করে পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির প্রলোভন, অতঃপর

১৪ জুলাই, ২০২৬

জাতীয় সংসদের একজন হুইপের কণ্ঠস্বর নকল (ভয়েস ক্লোন) করে একজন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পছন্দের জেলায় বদলির প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে খুলনায় ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাসহ দুজন লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। 

আর্থিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশে তারা এ প্রতারণার চেষ্টা করেছেন বলে মুচলেকায় স্বীকার করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম বাবু (৩৮) এবং কয়রা উপজেলার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান (৩২)।

ঘটনার বিবরণ ও লিখিত মুচলেকা সূত্রে জানা গেছে, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে তারা ২৫তম বিসিএস ব্যাচের একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে টার্গেট করেন। পরে তাকে একটি নির্দিষ্ট জেলায় পদায়ন ও বদলির আশ্বাস দিয়ে যোগাযোগ শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তারা জাতীয় সংসদের একজন হুইপের কণ্ঠস্বর প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল (ভয়েস ক্লোন) করে বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সঙ্গে বদলির তদবিরের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গেও কথা বলে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তি লিখিত মুচলেকা দেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, আর্থিক লাভের উদ্দেশে একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে জেলায় পদায়নের প্রলোভন দেখিয়ে হুইপের কণ্ঠ নকল করে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করতে পারেননি বলেও তারা দাবি করেছেন।   

মুচলেকায় তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। মুচলেকায় সাক্ষী হিসেবে মো. আব্দুল মতিন চৌধুরী ও স্থানীয় বাসিন্দা সুমনের নাম উল্লেখ রয়েছে। 

এ বিষয়ে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবুর ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।