ইনস্টাগ্রামে স্প্যাম মেসেজে অতিষ্ঠ? এই সেটিংস এখনই চালু করুন

১৪ জুলাই, ২০২৬

ইনস্টাগ্রাম এখন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিনোদনের পাশাপাশি অনেকে এই প্ল্যাটফর্মকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করছেন। তবে বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত বা স্প্যাম বার্তা এবং ভুয়া কল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিন দিন এই স্প্যাম বার্তার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। আপনিও যদি ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের বিরক্তিকর বার্তার কারণে সমস্যায় পড়েন। এই প্রতিবেদনে জানুন সমাধান।

ইনস্টাগ্রামে ‘স্প্যাম ফিল্টার’ নামের একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা থেকে সুরক্ষিত রাখতে তৈরি করা হয়েছে। এই ফিচারটি মূলত সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট এবং বার্তাগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মূল চ্যাট বা বার্তা তালিকা থেকে আলাদা করে দেয়। এর ফলে আপনার ইনবক্স বা বার্তা বাক্সটি সবসময় পরিষ্কার থাকে এবং কেবল গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোই সেখানে দেখা যায়। এই ফিচার চালুর ফলে কোনো ক্ষতিকর বা ভুয়া লিংকে ক্লিক করে সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে যায়।

আপনার ফোনে এই প্রয়োজনীয় সেটিংসটি চালু করতে প্রথমে ইনস্টাগ্রাম অ্যাপটি খুলুন এবং নিজের প্রোফাইলে প্রবেশ করুন। এরপর স্ক্রিনের ওপরের ডানদিকের কোণায় থাকা তিনটি লাইনের মেনু আইকনে চাপ দিন এবং সেখান থেকে ‘সেটিংস অ্যান্ড অ্যাক্টিভিটি’ অপশনে যান। সেখানে গিয়ে ‘মেসেজেস অ্যান্ড স্টোরি রিপ্লাইজ’ অপশনটিতে চাপ দিন এবং পরবর্তী ধাপে ‘মেসেজ কন্ট্রোলস’ অপশনে প্রবেশ করুন। এখানে আপনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন যে কারা আপনাকে সরাসরি বার্তা পাঠাতে পারবে এবং কাদের বার্তা সরাসরি অনুরোধের তালিকায় অর্থাৎ ‘মেসেজ রিকোয়েস্ট’-এ জমা হবে।

এই ফিচারের মাধ্যমে আপনি যেকোনো অচেনা ব্যক্তি কিংবা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের জন্য বিশেষ ফিল্টার বা ছাঁকনি চালু করে রাখতে পারবেন। এর ফলে তারা চাইলেই আপনাকে সহজে কোনো বার্তা পাঠাতে পারবে না এবং আপনার অ্যাকাউন্টটি অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে। এই সাধারণ সেটিংসগুলো করে রাখলে ইনস্টাগ্রামে স্প্যাম বার্তার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।

তবে কেবল এই ডিজিটাল সুবিধার ওপর নির্ভর করে বসে থাকলেই চলবে না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে নিজেকেও যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। অপরিচিত কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো সন্দেহজনক লিংকে কখনোই ক্লিক করবেন না। যেকোনো অপরিচিত বা ক্ষতিকর অ্যাকাউন্ট চোখে পড়লেই সেটিকে সাথে সাথে ব্লক বা রিপোর্ট করে দিন।

এর পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপনীয় তথ্য কখনোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও সাথে ভাগাভাগি করবেন না। সেই সাথে আপনার ফোনে থাকা ইনস্টাগ্রাম অ্যাপটি নিয়মিত আপডেট বা হালনাগাদ করে নিন, যাতে নতুন নতুন নিরাপত্তা ফিচারগুলো সহজে ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমান সময়ে সাইবার জালিয়াতি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এই নিয়মগুলো মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।