১৫ জুলাই, ২০২৬
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার হাতছানি ছিল ফ্রান্সের সামনে। তারকায় ঠাসা দলটার পক্ষে তা খুব কঠিন বলেও মনে হচ্ছিল না।
কিন্তু ডালাসে আজ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পাত্তাই দিল না স্পেন। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়ে স্প্যানিশরা জিতল ২-০ গোলে।
এমবাপ্পে-ওলিসে-দেম্বেলেদের সামর্থ্যের ছিটেফোঁটাও আজ দেখা যায়নি মাঠে। স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ তাদের এক রকম বোতলবন্দী করে রেখেছিল।
তবে দল বাজে খেললেও হারের দায় রেফারিকে দিলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।
এ ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন এল সালভাদরের ইভান বার্তন, যিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও। বার্তনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন দেশম।
ম্যাচ শেষে দেশম বলেছেন, ‘এই রেফারির (বার্তনের) কি আদৌ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ পরিচালনা করার যোগ্যতা আছে? এখন কিছু বললে মনে হবে হেরে গিয়ে কাঁদছি।
তবে এটা শুধু পেনাল্টির বিষয় না; অনেকগুলো ভুল সিদ্ধান্তের সমষ্টি। উত্তরটা আমি না, আপনারাই দিন।’
ফ্রান্সের অধিনায়ক ও কোচ—উভয় ভূমিকায় অতীতে বিশ্বকাপ জেতা দেশমের মতে, ম্যাচে এমন কিছু সিদ্ধান্ত ছিল যা তার কাছে বোধগম্য হয়নি। বিশেষ করে কয়েকটি ফাউল ও শারীরিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে রেফারির সিদ্ধান্তে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
৫৭ বছর বয়সী এই কোচের ভাষায়, ‘আমি রেফারির সব সিদ্ধান্ত বুঝতে পারিনি। কিছু পরিস্থিতিতে মনে হয়েছে সিদ্ধান্তগুলো আমাদের বিপক্ষে গেছে।’
তবে দেশম স্বীকার করেছেন, যোগ্য দল হিসেবেই স্পেন এই ম্যাচ জিতেছে, ‘স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা অনেক ভুল করেছি। বলের দখল ও কৌশলগত দিক থেকে তারা এগিয়ে ছিল।’
প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারজাবালের পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্প্যানিশরা।
সেমিফাইনাল হেরে যাওয়া ফ্রান্স এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে। আগামী শনিবার রাতের সেই ম্যাচই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দেশমের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে।