১৫ জুলাই, ২০২৬
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিরোধপূর্ণ একটি সড়ককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ১ যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ১০ জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশের কড়া প্রহরায় যানবাহন চলাচল ও লোকজন চলাচল নেই বললেই চলে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামের ফুলকা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
উমর মজিদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ১জন নিহত এবং আহত হয়েছেন ৫ জন। আহতরা কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রামের একটি রেকর্ডভুক্ত বেদখল সড়ক উদ্ধার করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার ওই সড়কে মাটি কাটার কাজ শুরু করতে গেলে জয়নাল মিয়া ও তার লোকজন সেখানে যান। এ সময় আব্দুর সাত্তারের ছেলে জাহেদুল ইসলাম জিন্নাত (৪০) কাজে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে জয়নাল মিয়ার ছেলে লিমন (৩০) ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জিন্নাতের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় জিন্নাত ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে জয়নাল মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে নয়ন আলী (২৫) আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে জিন্নাতের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আহত জয়নাল মিয়া ও নয়ন আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টায় নয়ন আলী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় এমন গুজব ছাড়ালেও দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
ঘটনার পর এলাকায় প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ এলাকায় পুলিশ মোতায়ন থাকবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনসাধারণকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।