আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা

১৫ জুলাই, ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ের যে কোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বেশ শান্তিপূর্ণই কেটেছে। আশি বা নব্বইয়ের দশকের সেই কুখ্যাত হুলিগানিজম বা সহিংসতার নজির এবার নেই বললেই চলে। 

তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বুধবার যখন মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা, তখন আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না স্বাগতিক শহর আটলান্টা। ম্যাচ ঘিরে শহরটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ (এপিডি)।

বিশ্বকাপে আটলান্টা স্টেডিয়ামের সাত ম্যাচের মধ্যে এটিই শেষ। এপিডি জানিয়েছে, এই ম্যাচ ঘিরে শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। দর্শকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এক বিবৃতিতে এপিডি বলেছে, ‘এ ধরনের বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে সবাই নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারেন।’

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার দীর্ঘ দিনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ। তাই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য। 

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রো মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিষয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠক হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের প্রথমবারের মতো দুই দলের সমর্থকদের আলাদা প্রবেশপথ দিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করানো হবে। 

তবে ফিফার টিকিট বিক্রির নীতির কারণে স্টেডিয়ামের ভেতরে সমর্থকদের পুরোপুরি আলাদা করে বসানো সম্ভব হবে না।

এপিডি আরও জানিয়েছে, তারা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনার নির্দিষ্ট কৌশল বা ঝুঁকি মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশ করা হবে না। 

ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল বৈরিতার ইতিহাস দীর্ঘ। বিশ্বকাপে এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি, যার কয়েকটি ম্যাচ বিতর্কিত ঘটনাতেও স্মরণীয় হয়ে আছে। 

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় আইল মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের যুদ্ধের পর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়। ওই সংঘাতে প্রাণ হারান ৯০৭ জন।

মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী কোনো পতাকা, ব্যানার বা পোস্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক কিংবা বর্ণবাদী উসকানিমূলক বার্তাও নিষিদ্ধ থাকবে। 

ইংল্যান্ড সমর্থকদের প্রতি বার্তা

একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের ‘হুলিগান’ পরিচিতি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ভাবমূর্তি অনেকটাই বদলেছে।

ইংল্যান্ডের সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর আমেরিকাজুড়ে ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা দেশের সুনাম উজ্জ্বল করেছেন। পুরোনো নেতিবাচক ধারণা এখন আর তাদের প্রতিনিধিত্ব করে না।

সংগঠনটি সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সবাই যেন একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করেন, দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখেন ও আবারও প্রমাণ করেন কেন ইংল্যান্ডের সমর্থকদের বিশ্বের সেরা সমর্থকদের অন্যতম বলা হয়।