১৫ জুলাই, ২০২৬
নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে তিন ছোট ভাই-বোনকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে গেল ১৪ বছরের এক কিশোরী। কেউটে সাপের (কিং কোবরা) ছোবল থেকে ভাইবোনদের রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই বিষাক্ত ছোবলের শিকার হয়ে মারা গেছে সে।
গত ১৩ জুলাই ফিলিপাইনের সারাঙ্গানি প্রদেশের মাইতুম এলাকার বাতিয়ান গ্রামে ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত কিশোরীর নাম বুদিং। তার এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও বীরত্বে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে বুদিং তার তিন ছোট ভাই-বোনের সঙ্গে ক্রসিং কুদা এলাকার একটি নদীতে গোসল করছিল। এমন সময় হঠাৎ নদী দিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে একটি বিশাল কিং কোবরা। ফিলিপাইনে স্থানীয়ভাবে এই সাপকে ‘বানাকন’ বা ‘সোয়াগা’ বলা হয়।
সাপটিকে এগিয়ে আসতে দেখেও বুদিং নিজে পালিয়ে বাঁচতে চেষ্টা করেনি। ছোট ও অসহায় ভাই-বোনদের বাঁচাতে সে নিজের শরীরকে ঢাল বানিয়ে তাদের আগলে রাখে।
কিশোরীর বোন নাইব মলাহ জানায়, সাপটি ছোট শিশুদের আক্রমণ করতে গেলে বুদিং তাদের জড়িয়ে ধরে নিজের পিঠ পেতে দেয়। সাপের বিষাক্ত ছোবলটি সরাসরি বুদিংয়ের পিঠের নিচের অংশে লাগে।
ছোবল খেয়েও ছোট ভাই-বোনদের অক্ষত অবস্থায় নদী থেকে ওপরে তুলতে সক্ষম হয় সে। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাইব মলাহ বলেন, ‘সে নিজের কথা এক মুহূর্তের জন্যও ভাবেনি। ও যদি এভাবে এগিয়ে না আসত, তবে আমরা হয়তো আজ একসঙ্গে চারটা শিশুকে হারাতাম।’
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ কিশোরীর এই অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করছেন।
মাইতুমের মেয়র জেমস রেগানিত শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে সৎকারের সমস্ত খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুদিংয়ের মৃত্যুর পর ঘটনার কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিশোরীর পরিবার সবাইকে অনুরোধ করেছে যেন এই ভিডিওগুলো শেয়ার করা বন্ধ করা হয়। পরিবারটির ভাষ্য, এই ভিডিওগুলো তাদের শোক ও বেদনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্ষার এই সময়ে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে নদী বা ঝোপঝাড়ে চলাচলের সময় অতিরিক্ত সাবধানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাপে কাটলে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
সূত্র: ইনকোয়ারার