১৬ জুলাই, ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জুলাই অভ্যুত্থানের বেওয়ারিশ ও অজ্ঞাতনামা শহীদদের গণকবর জিয়ারত করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ সময় সংগঠনটি জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে দেশে গণহত্যা ও দমন-পীড়নের ঘটনা শুরু হয় এবং শহীদ আবু সাঈদের রক্তের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার ও তার সহযোগীরা গোপনে বহু লাশ দাফন করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রশিবির ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। তবে সরকারিভাবে ৮৫৬ জনের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রায় ৬০০ জন এখনো অজ্ঞাতনামা রয়েছেন।
তার অভিযোগ, এসব লাশের একটি অংশ গোপনে দাফন করা হয়েছিল।
ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
তার ভাষ্য, কয়েকটি ঘোষিত রায় এখনো বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারাগারে থাকা অভিযুক্তদের মামলারও দ্রুত নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, সংগঠনের মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গণমিছিল, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, ক্যাম্পাসভিত্তিক গ্রাফিতি অঙ্কন, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রকাশনা বিতরণ এবং রাজধানীর শাহবাগে চার দিনব্যাপী ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেয়া রায়ের বাস্তবায়নের দাবিও এসব কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাবে।
নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা প্রতিহত করাই এসব কর্মসূচির লক্ষ্য। দেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ আবু মুসাসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।