১৭ জুলাই, ২০২৬
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। কমেডি কিংবা খলচরিত্রে খুব সহজেই মিশে যাওয়ার দারুণ দক্ষতা রয়েছে তাঁর। এক যুগ আগে অভিনয় থেকে নাম লিখিয়েছিলেন রাজনীতিতে। কিন্তু ক্ষমতার চেয়ারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। তাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েও ছেড়েছিলেন ক্ষমতার মসনদ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজনীতি আসলে ফুল-টাইম ক্যারিয়ার। যা একজন নিষ্ঠাবান অভিনয়শিল্পীর পক্ষে সামলানো অসম্ভব।
রাজনীতিতে আসার পর নিজের জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে পরেশ বলেন, ‘২০১৪ সালে যখন আমি রাজনীতিতে গেলাম, তারপর থেকে মূলত গোলমালটা শুরু হলো। আগে থেকেই আমার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল। সাংসদ হওয়ার পর কাজের চাপ প্রতিদিন তিনটি করে ওষুধ খাওয়া শুরু করতে হয়েছিল। আমাদের ধারণা ছিল, রাজনীতিবিদরা আরামে এসি রুমে কুশনে হেলান দিয়ে বসে থাকবেন। আর লোকে তাঁদের সেবা করবে, ভালোমন্দ খাওয়াবে। কিন্তু রাজনীতিতে গিয়ে বুঝলাম সেখানে কত খাটুনি! কাজ করতে করতে জান শেষ হয়ে যায়।’
রাজনীতি থেকে বাড়িতে সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল না বলে জানান পরেশ। অভিনেতার ভাষ্য, ‘আমি রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি কারণ এটা আমার কাজ নয়। ছোট একটা উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছে ছিল না। আর এ বিষয়ে আমার তেমন জ্ঞানও কম। আমি শুধু এটুকুই বুঝেছি এটি একটি অত্যন্ত মহৎ কাজ। এর ভেতরে আপনাকে পুরোপুরি ডুবে থাকতে হবে। আপনার পুরো সময়টা রাজনীতিতে দিতে হবে। তবেই টিকে থাকতে পারবেন।’
রাজনীতির মাঠে ব্যস্ত হয়ে নিজের আজীবনের সাধনা অভিনয়কে হারাতে চাননি তিনি। একই সঙ্গে রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে নিজের সততা হারানোর ভয়ও কাজ করছিল তাঁর মনে। অভিনেতা বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি যদি আপনাকে বলি আপনার কাজটা আমি করে দেব অথচ আমি নিজেই জানি না যে ভেতরের সিস্টেমটা কীভাবে কাজ করে; তখন প্রতিবার যখন লোকজন এসে জিজ্ঞেস করবে— পরেশ ভাই, কী হলো? আর আমি বলব—করছি, করছি'; এভাবে দুই-তিনবার আমি মিথ্যা বলব। এভাবে আমার নিজের ভেতরে একজন মিথ্যাবাদী মানুষের জন্ম নিচ্ছিল। আমার ভেতরে খুঁত তৈরি হচ্ছিল। যা দিনশেষে একজন ভালো অভিনেতা হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াত।’