ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভ্যান্সের অভিযোগ

১৭ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির বিরোধিতা করতে ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য মার্কিন জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, মিত্র রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেই পারে, কিন্তু তা যদি মার্কিন নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলে, সেটিই উদ্বেগের বিষয়।

বুধবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত জনপ্রিয় পডকাস্ট উপস্থাপক জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন ভ্যান্স। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির চুক্তির পক্ষে অবস্থান নেন। ওই চুক্তির সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ কিংবা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বিলুপ্ত করার সুস্পষ্ট কোনো পথ নির্ধারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও এটি সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে বলে তাদের দাবি।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই যে ইসরায়েল সরকারের ভেতরে এমন কিছু মানুষ ছিলেন, যারা আমাদের এই নীতি থেকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কারণ তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল সরকারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে সরকারব্যবস্থার ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মার্কিন জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

ভ্যান্স বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ-মিত্র ও প্রতিপক্ষ উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকে। তাঁর ভাষায়, ‘ইসরায়েল এটা করার চেষ্টা করলে আমার আপত্তি নেই। এমনকি রাশিয়া বা অন্য দেশগুলোও একই চেষ্টা করে- এটাও আমাকে বিচলিত করে না। ২০২৬ সালে একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য এটাই বাস্তবতা।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যখন এসব প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখনই তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’

গত জুনেও ভ্যান্স ইরান-চুক্তির সমালোচনাকারী ইসরায়েলি মহলের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইসরায়েলের একমাত্র মিত্র। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিপুল প্রতিরক্ষা সহায়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তাদের উদ্বেগ চুক্তিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাদের দাবি, এ বিষয়ে ইসরায়েলের নেতৃত্বের মধ্যে বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়, ইসরায়েলের প্রভাব না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াত কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাই মনে করি।’

তবে তিনি যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রভাবের বাইরে থেকেও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। ভ্যান্স বলেন, তিনিও এ অবস্থানের সঙ্গে একমত।

এদিকে, ভ্যান্সের এ মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স