ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষিজমি ভরাট, অভিযান ছাড়াই ফিরল ভ্রাম্যমাণ আদালত

১৭ জুলাই, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের শেখ হাসিনা সড়কে কৃষিজমি ভরাট বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সশরীরে ঘটনাস্থলে গেলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই ফিরে এসেছেন। 

গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে প্রশাসনের এভাবে ফিরে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর ও সদর উপজেলার সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলাকে যুক্ত করেছে শেখ হাসিনা সড়ক। এ সড়কের শিমরাইলকান্দি এলাকায় দ্বিতীয় সেতুর পূর্ব পাশে তিতাস নদীর তীরবর্তী কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করছে একটি প্রভাবশালী মহল।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস ধরে ওই কৃষিজমির চারপাশে পিলার স্থাপন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি বালু ভরাটের কাজ চলছে। এর আগে গত ১০ মার্চ স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা প্রশাসন সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এবং বালু নিলামে বিক্রির আদেশ দেয়। তবে ওই অভিযানের পর রহস্যজনকভাবে বালু নিলামের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আরেফিন হাসান, করিম মিয়া ও হাফিজ উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় প্রশাসনের লোকজন ও শ্রমিকরাও সঙ্গে ছিলেন। তখন কৃষিজমিতে পিলার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছিল।

তারা জানান, প্রায় ২০ মিনিট ধরে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা গাড়ির ভেতরে অবস্থান করেন। এর মধ্যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকারী শ্রমিক ও জমির মালিক ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের গাড়িও সেখান থেকে চলে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার প্রিন্স সরকার এবং শাহরিয়া হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নুরপুর জিসি-কালীবাড়ি মোড় সড়কের শিমরাইলকান্দি এলাকায় যান। তাদের সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া, অফিস সহায়ক লোকমান হোসেন জুয়েল এবং কয়েকজন শ্রমিকও ছিলেন। তবে সেখানে গিয়ে তারা কোনো অভিযান পরিচালনা না করেই ফিরে আসেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার শাহরিয়া হাসান খান বলেন, “আমরা সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকে না পাওয়ায় অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। আমরা লোক লাগিয়ে রেখেছি। পরে অভিযান চালানো হবে।”

বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, কেন তারা ফিরে এসেছেন, সেটি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। অভিযানের বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ নেই বলেও জানান তিনি।