এবার চুরির অভিযোগ ভিন্ন রকম শাস্তি

১৮ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে অনুতপ্ত হয়ে ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। শাস্তিস্বরূপ ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোন ও একটি লেডিস ব্যাগ চুরির অভিযোগে মো. ফয়জুল করিমকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর কখনো চুরি বা কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে সবার কাছে অঙ্গীকার করেন। তার অনুতাপ ও অসহায়ত্ব বিবেচনায় স্থানীয়রা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেন।

কিন্তু সেই সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাতেই জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ফয়জুল করিমকে গ্রেপ্তার করে। তিনি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

স্থানীয় যুবক জহির বলেন,ভালো হওয়ার অঙ্গীকারে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতেই মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের খবর শুনে আমরা হতাশ হয়েছি। মানুষ নিজে থেকে পরিবর্তন না চাইলে তাকে বদলানো কঠিন।

আরেক স্থানীয় যুবক আহসান উল্লাহ রাকিব বলেন,অসহায় মনে করে তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক। এতে সমাজের মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বলেন, চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। পরে রাতে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, অনুতাপ প্রকাশ করলেই পরিবর্তন আসে না; প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন নিজের আন্তরিক ইচ্ছা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা।