১৯ জুলাই, ২০২৬
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার নদ-নদীগুলোর পানি ওঠা-নামা করায় নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে আড়াই শতাধিক বসতভিটা, মসজিদ এবং চার শতাধিক বিঘা ফসলি জমি। একই সঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়েছে আরও পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ আবাদি জমি ও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, সদর ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চল। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকায় ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্যমতে, নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে করতোয়ার পানি হ্রাস পেয়েছে। মূলত পানি কমা-বাড়ার কারণেই নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে স্থানীয় বৃদ্ধা মমিনা বেগম বলেন, নদীত হামার আবাদি জমা-জমি ধপাস ধপাস করি ভাঙি পড়ছে। এবার যে ভাবে ভাঙছে, বাঁচি থাকার জন্য কিছু থাকপার নয় মনে হয়। ভাঙনের শিকার আরেক বাসিন্দা ফয়জার রহমান বলেন, বিঘার পর বিঘা ফসলের জমি নদীর মধ্য ভাঙে পড়ছে। সারা বছরই এভাবে ভাঙনের শিকার হতে হয় চরের মানুষদের।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনজু মিয়া সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, এই ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড নদীর চরে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে লারচামার এলাকার ৫০টি বসতভিটা, হাজারও গাছপালা, স্কুল, মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ওই এলাকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চেয়াম্যানদের কাছ থেকে তালিকা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।