ধর্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগে দুই ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেফতার

১৯ জুলাই, ২০২৬

বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান টেটকে ধর্ষণসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রত্যপর্ণের অনুরোধে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি শহর থেকে তাদের আটক করে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মার্কিন মার্শাল সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আদালতের সিলমোহরযুক্ত পরোয়ানার ভিত্তিতে দুই ভাইকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাদের মায়ামির একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মানবপাচার, যৌন নিপীড়ন এবং শিশুদের অশ্লীল ছবি সংরক্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে। অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে ৪২টি এবং ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগের তদন্ত চলছে। অন্তত সাতজন নারী তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডশায়ার ও হার্টফোর্ডশায়ার এলাকায় এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের সহকারী প্রধান কর্মকর্তা কারেনা থমাস বলেন, এই জটিল তদন্তে প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার কোনো স্থান সমাজে নেই এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও মায়ের সূত্রে অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেট যুক্তরাজ্যেরও নাগরিক। শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় তারা যুক্তরাজ্যেই কাটিয়েছেন। ২০১৬ সালে তারা রোমানিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নারী পাচার ও যৌন শোষণের অভিযোগে রোমানিয়ায় গ্রেপ্তার হন দুই ভাই। পরে কারামুক্ত হয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

এদিকে ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর পরও তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। অঙ্গরাজ্যটির প্রসিকিউশন বিভাগ বর্তমানে সেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

টেট ভাইরা শুরু থেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্দেশ্যে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও নারী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, টেট ভাইদের বক্তব্য সমাজে নারীবিদ্বেষ, ঘৃণা ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে উসকে দেয়। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা নিষিদ্ধ করেছে।

সূত্র : আল জাজিরা