১৯ জুলাই, ২০২৬
বগুড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত আসামি মো. আসাদ জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মো. মতি মুন্সির ছেলে।
পুলিশ কর্মকর্তরা জানান, গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন নিজের পরনের লুঙ্গি গলায় পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এর আগে, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আব্দুল মান্নান গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে। এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানায় ১ জুলাই মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির প্রধান আসামি ছিলেন আসাদ।
জানা যায়, গত ১৮ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মো. আসাদকে আটক করা হয়।
পরে তাকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবির একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।
পরে রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে আসাদ হাজতখানার বাথরুমে যান। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাইরে আসছেন না।
পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, তিনি নিজের পরনের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আরএমও রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমাদের এখানে আসার পরে দেখতে পেয়েছি তার গলায় ঘসার একটি চিহ্ন ছিল। এছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তাতে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহটি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, সারিয়াকান্দি থানায় সিএনজি ছিনতাই ও চালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (২৫) ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেছেন। সকালে বাথরুমে ঢুকে তিনি নিজের লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের রডের সাথে ফাঁস লাগানোর চেষ্টা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।