২০ জুলাই, ২০২৬
গত ১৭ জুলাই ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৭ জুলাই ফের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই ২০ দিনে চীনের কাছে ৬০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে ইরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা মাত্র এই সুযোগকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগিয়েছে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এবং নিজেদের প্রায় ২০টি ট্যাংকার জাহাজে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূল ব্যবহার করে চীনের বন্দরে তেল পৌঁছে দিয়েছে। ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে চীনে প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ইরান পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। বর্তমানে বাজারে এই পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের দাম ৬০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি।
উল্লেখ্য, ইরানের তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ১৯৭৯ সালে। তারপর পরবর্তী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে সেই নিষেধাজ্ঞাকে আরও দৃঢ় করা হয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে ইরান থেকে তেল ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় চীন। বর্তমানে চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং মোট রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ ভাগ কেনে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যখন কার্যকর থাকে, সে সময় দক্ষিণ চীন সাগরের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত ইস্টার্ন আওটার পোর্ট লিমিটস (ইওপিএল) এলাকায় যায় ইরানি ট্যাংকার জাহাজগুলো এবং সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত থাকে চীনা ট্যাংকার জাহাজ এবং ইরানি ট্যাংকার সেখানে পৌঁছানোর পর পাইপের মাধ্যমে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেলের স্থানান্তর হয়।
গত বেশ কয়েক বছর ধরে চীনের কাছে এভাবেই তেল বিক্রি করে আসছে ইরান। তবে নতুন দফায় উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ৭ জুলাই ইরানি তেলের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপরও অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর থেকৈ ইরানের কোনো জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারছে না, আবার যেসব জাহাজ বন্দরের বাইরে ছিল— সেগুলোও প্রবেশ করতে পারছে না।
সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ফার্স্টপোস্ট