২০ জুলাই, ২০২৬
টানা বৃষ্টিতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের অন্তত ১৩ কিলোমিটার অংশের অবস্থা নাজুক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে এমসি বাজার, নয়নপুর, জৈনা বাজার ও মাওনা পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পানি জমলে কোথায় গর্ত আর কোথায় স্বাভাবিক সড়ক- তা বোঝাই কঠিন হয়ে পড়ে পরিবহনচালক ও সাধারণ মানুষের জন্য।
এদিকে, মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে শ্রীপুর উপজেলার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের সখীপুর এবং ময়মনসিংহের ভালুকা ও কাচিনা এলাকার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে জৈনা বাজার থেকে তুলা গবেষণা কেন্দ্র পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচঢালাই উঠে নিচের ইটের সুরকি বেরিয়ে এসেছে। গর্তে জমে থাকা পানির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে পড়ছে। বিশেষ করে এমসি বাজার মোড়ে বড় বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করায় দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এমসি বাজার শিশু পল্লী রোডের মোড়ে গর্তের মধ্যে সাদা মাটির স্তূপ ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এতে সড়কের অবস্থা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং চলাচলের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এমসি বাজার বাসস্ট্যান্ডে ইমাম পরিবহনের চালক সালাম বলেন, “সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় গাড়ি খুব ধীরে চালাতে হচ্ছে। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা বিরক্ত হন, অনেক সময় আমাদের সঙ্গে তর্কও হয়।”
পিকআপচালক শাকিল বলেন, “যে পথ এক ঘণ্টায় পার হওয়ার কথা, সেখানে কখনো তিন ঘণ্টাও লেগে যাচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি গাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
মাওনা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, সড়কের খানাখন্দের কারণে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থানে মেরামতের কাজ চলমান।”
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিমাণ বেড়েছে। ছোট ছোট গর্ত মেরামতের কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং জরুরি স্থানগুলোতে বৃষ্টির মধ্যেও সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে।”
তিনি জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্থায়ী সংস্কারের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে দুই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে টেকসই পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হবে।
অন্যদিকে, সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কটি গত দুই বছর ধরে খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। প্রতিদিন এই পথে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে গর্ত ঢেকে যাওয়ায় অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সাব্বির হোসেন বলেন, “এটি শুধু একটি সড়ক নয়, চার উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই দ্রুত স্থায়ী সংস্কার করা জরুরি।”
কপাটিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাহার আলী বলেন, “ভাঙাচোরা সড়কের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।”
অটোরিকশাচালক শাজাহান বলেন, “রাস্তার কারণে সপ্তাহে অন্তত দুইবার গাড়ি গ্যারেজে নিতে হয়। বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরাও অসন্তুষ্ট হন।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ জানান, বাজেট সংকটের কারণে এখনো সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে, এলজিইডির জিওভি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
অটোরিকশায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, নিহত ১
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অটোরিকশায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন জন।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হারবাং বাজারের উত্তরে সাইফা কমিউনিটি সেন্টারের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমাম হোসেন (৩৯) উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকার শামসুল আলমের ছেলে।
চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুল আমিন বলেন, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি কাভার্ডভ্যান বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চার যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইমামকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরো বলেন, ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।