২০ জুলাই, ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে চাঞ্চল্যকর শিশু শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেনকে কঠোর পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন (২৯) জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর (বড় মসজিদপাড়া) গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের মেয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন (১০) কয়েকজন শিশুর সঙ্গে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি শাক তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মকে ভুট্টাক্ষেতের দিকে নিয়ে যায় এবং অন্য শিশুদের অপেক্ষা করতে বলে।
দীর্ঘ সময় পরও মরিয়ম ফিরে না আসায় বিষয়টি তার মাকে জানায় সঙ্গে থাকা শিশুরা।
পরে ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিচার চলাকালে আসামি আবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এছাড়া তার ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনও ইতিবাচক আসে। মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমএম শাহজাহান মুকুল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়ায় সন্তুষ্টি জানান।