অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন, হুমকিতে কৃষিজমি

২০ জুলাই, ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে নদী ও খাল থেকে বালু উত্তোলন এবং কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলার কাঠাদিয়া-শিমুলিয়া (কে-শিমুলিয়া) ইউনিয়ন ও যশলং ইউনিয়নের সামনের খালে প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পিন্টু নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া পুরা বাজার, বাঘিয়া, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পাশসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন ও কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এরপরও প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমি ভরাট ও বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সোনারং এলাকায় শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের একটি স্থানে ড্রেজারের মাধ্যমে ফসলি জমি ভরাট করছেন। এ ছাড়া পুরা বাজার ও আশপাশের এলাকায় নয়াদ্দার আনোয়ার, রানা, যশলং এলাকার সবুজ, দরজারপাড়ের মো. আসা, মো. ভুট্টু ও তাঁর দুই ভাইসহ কয়েকজন ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমি ভরাটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরকে ‘ম্যানেজ’ করার দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, যেসব জমিতে একসময় ধান, পাট ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদিত হতো, সেসব আবাদি জমিতে এখন বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পিন্টু মুঠোফোনে বলেন, ‘সামনে আসেন, কথা বলি।’ তবে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খোঁজখবর নিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।