জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের আলোচনা সভা

২১ জুলাই, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের নারীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম। আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম। 

তাসমিয়া প্রধান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে জুলাই সনদ করা হয়। এরপর গণভোট হলে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। জুলাই সনদের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছে বিএনপি, গণপরিষদের শপথ না নিয়ে। এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর হতে পারে না। জুলাই শহীদদের সঙ্গে বেইমানির জন্য আরেকটি আন্দোলন গড়ে তুলব আমরা। যেকোনো মূল্যে আমাদের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। 

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রুম্মান বলেন, চব্বিশের গণআন্দোলন একটি দ্রোহ, একটি বিপ্লব। যার ফলশ্রুতিতে এই সংসদ গঠিত হয়েছে, সরকার গঠিত হয়েছে। আজকের সংসদে জুলাই বিপ্লব, জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা চলছে। যতদিন না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হবে- ততদিন পর্যন্ত আমরা স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করতে পারব না। আমাদের সেই স্বাধীনতা পেতে হলে, ধরে রাখতে হলে ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গড়তে হলে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আবার নেমে পড়তে হবে। আর কোনো নতুন ফ্যাসিস্টকে এই দেশে আমরা স্থান দেব না। 

এনসিপির জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, আমাদের জুলাই গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা থেকে শুরু করে সব ত্যাগের মূল্য দিতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকার চাটুকারিতা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না। যে সরকার ক্ষমতায় আছে সেটি গণবিচ্ছিন্ন সরকার। আমরা তরুণ প্রজন্ম ক্ষমতার হাতবদলের জন্য রাজপথে নামিনি। আমরা চাই না আর কোনো তরুণ স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে কথা বলতে গিয়ে জীবন দিক। সেই বাংলাদেশ আমরা চাই না।  যারা নতুন বাংলাদেশর স্বপ্ন দেখেন তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। সত্যিকার অর্থে যে দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, গণতান্ত্রিক মুক্তির আন্দোলন আমরা করেছিলাম, সেটি সফল হয়নি। আন্দোলন যদি ক্ষমতা পাওয়ার জন্য হয় তাহলে সেটি শহীদ ও আহতদের অপমান করা হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে শহীদ ও জুলাইয়ের প্রতি সরকারের যে কমিটমেন্ট সেটি প্রমাণ করতে হবে।  

 

 

জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ অনেক শহীদের নাম আমাদের স্মরণ থাকলেও আমরা অনেক সময় নারী শহীদদের নাম স্মরণ করতে ভুলে যাই। এটি বেদনাদায়ক। তাই নারী-পুরুষ সব শহীদকে সমানভাবে স্মরণ ও শ্রদ্ধা করতে হবে। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো সাধারণ আন্দোলন নয়, বরং এটি ছিল সামগ্রিক পরিবর্তনের ডাক এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। তরুণ প্রজন্ম শিখিয়েছে কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের যদি সম্মান করতে চাই- তাহলে আমাদের জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধারণ করতে হবে। 

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নিলু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, লেবার পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সাবিনা ইয়াসমিন, জামায়াতের মহিলা বিভাগের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট প্রমুখ।