এবার আমাকেও দেশদ্রোহী বলুন, দিল্লির আন্দোলনে দিলজিতের হুংকার

২২ জুলাই, ২০২৬

ভারতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে প্রায়। সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষজন পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষার্থীদের। এই দলে আছেন পাঞ্জাবের কণ্ঠশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোজ জনতা পার্টির এ আন্দোলনে গর্জে উঠেছেন দিলজিৎ। তাদের সঙ্গে একাত্ম ঘোষণা করে বলেছেন, “নিন, এবার আমাকেও দেশদ্রোহী বলুন।”

সোমবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরোধিতায় এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদ অভিযানের কর্মসূচি ছিল শিক্ষার্থীদের। মেলেনি অনুমতি। উল্টো কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি লাঠিচার্জ করা হয় আন্দোলনকারীদের ওপর। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সে নির্যাতনের ভিডিও।

ভিডিও শেয়ার করে দিলজিৎ লেখেন, “যা হলো, তা খুব ভুল হলো। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যাতে শিক্ষার্থীদের আবেদন শোনা হয়। মানুষের কণ্ঠই কিন্তু আসলে ঈশ্বরের কণ্ঠ।”

এর আগেও বিভিন্ন আন্দোলনে গলা চড়িয়েছেন দিলজিৎ। সেজন্য পেতে হয়েছে দেশদ্রোহী তকমা। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একাধিকবার আমাকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হয়েছে। ফের আমাকে হয়তো দেশদ্রোহী বলা হবে। কৃষক আন্দোলনের পরে নানা রকমের কটাক্ষের মুখে পড়েছিলাম এবং নানা রকমের আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছিল, যেগুলো নিয়ে কথাও বলতে পারব না আমি। কিন্তু ঈশ্বর সব দেখছেন।”

তবে আন্দোলনের শুরুর দিকে সরব ছিলেন না দিলজিৎ। উল্টো গিয়েছিলেন পাশ কাটিয়ে। প্রশ্নের মুখে বলেছিলেন, “আমি একজন শিল্পী, নেতা নই। ভাই, আমাকে এসব বিক্ষোভ থেকে দূরেই রাখো।” সেসময় গুঞ্জন উঠেছিল বিজেপি যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে গায়কের। সেজন্যই এই পাশ কাটানো।

ককরোজ পার্টির আন্দোলন মূলত শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় ব্যাপক খরচ এবং সার্বিকভাবে দেশের পড়ুয়াদের প্রতি কেন্দ্রের দায়বদ্ধতার অভাব নিয়ে। দিলজিৎ ছাড়াও ভারতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এরইমধ্যে সমর্থন জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের।