২২ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট। চলতি বছর, বিশ্বকাপ আয়োজনের শুরু থেকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর ইনফান্তিনোর প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইনফান্তিনো, চলতি বছরের বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ফিফার এই শীর্ষ কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি, গত ডিসেম্বরে, ফিফার প্রথম ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কারও দেন তাকে।
এক বক্তব্যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প মনে করেন, ইনফান্তিনো 'বিশ্বজুড়ে সবার কাছে সম্মানিত' এবং মানুষের মধ্যে ঐক্য তৈরির ক্ষেত্রে তার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেস চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে দায়িত্ব ছাড়বেন। এরপর নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ পদে আসতে হলে ইনফান্তিনোকে প্রথমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
তবে ইনফান্তিনো নিজে এই পদে আগ্রহী কি না বা ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বর্তমান প্রার্থী তালিকায় লাতিন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্টসহ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তি থাকলেও ট্রাম্প মনে করছেন, এই প্রতিযোগিতায় ইনফান্তিনোর জন্য সুযোগ রয়েছে। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্ট বর্তমান প্রার্থীদের মধ্যে সাতজনকে 'দুর্বল প্রার্থী' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সমাজতান্ত্রিক সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেট এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি।
ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব করার উদ্যোগ হলে তা লাতিন আমেরিকা বা ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে প্রার্থী নির্বাচনের দীর্ঘদিনের রীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। সর্বশেষ এই অঞ্চল থেকে জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েয়ার, যিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র বলছে, ভৌগোলিক ভারসাম্যের বিষয়টি ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বড় বাধা নাও হতে পারে। ট্রাম্পের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সমর্থনও তিনি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের বৈশ্বিক অংশীদারত্ব বিষয়ক বিশেষ দূত পাওলো জামপোল্লি বলেন, 'এমন একটি অসাধারণ ধারণা একমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই দিতে পারেন।'
তিনি বলেন, ইনফান্তিনো এই দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারবেন এবং তিনি 'সবার কাছে গ্রহণযোগ্য'। তার মতে, ইনফান্তিনো জাতিসংঘের বিশাল আমলাতান্ত্রিক কাঠামোতে নতুন গতি আনতে পারেন এবং ক্রীড়াকে ব্যবহার করে বিশ্বের তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করতে পারেন।
জামপোল্লির মতে, ফিফা সভাপতি ও জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্বের মধ্যে কিছুটা মিল রয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে হয়, আর ফিফার সদস্য সংখ্যা ২০০-এর বেশি। ইনফান্তিনোর রেকর্ড দেখায়, তিনি বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংগঠন পরিচালনা করতে সক্ষম।
এদিকে, ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী মার্চে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তবে, জাতিসংঘের মহাসচিব পদে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ইনফান্তিনো তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।