২৩ জুলাই, ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার নামে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। রাতের আঁধারে সাঁটানো এসব উসকানিমূলক পোস্টার নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘প্রহসনের বিচার’ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই নিষিদ্ধ সংগঠনটি এমন তৎপরতা চালানোর সাহস পাচ্ছে বলে অভিযোগ করছে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে, কর্মচারীদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক টাওয়ারের সংলগ্ন এলাকায়, প্রান্তিক গেইট এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এবং বিশমাইল গেইট এলাকার যাত্রী ছাউনিসহ বেশ কিছু জনাকীর্ণ স্থানে এই পোস্টারগুলো টাঙানো হয়েছে।
পোস্টারগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানার নাম ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সেখানে লেখা রয়েছে- ‘গোপালগঞ্জ গণহত্যার ১ বছর পূর্তি’, ‘এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের উপর গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই’, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রহসনের রায় অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে, সকল মিথ্যা মামলা পরিহার করতে হবে’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগকে যখন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তখন ক্যাম্পাসের ভেতরে এতগুলো পয়েন্টে কীভাবে পোস্টার লাগানো হলো? আমরা মনে করেছিলাম- ক্যাম্পাস এখন নিরাপদ, কিন্তু এই ঘটনা আমাদের আবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগাচ্ছে।
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এই তৎপরতার পেছনে প্রশাসনের গাফিলতি ও ‘ফ্যাসিস্টদের দোসরদের’ ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
জাবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন সংগঠনের রাজনীতি করার কোন সুযোগ নাই। আমরা দেখেছি ছাত্রলীগ কীভাবে শিক্ষার্থীদের উপর গণরুম, গেস্টরুম কালচারের মাধ্যমে অত্যাচার করত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে নৃশংস হামলা চালিয়েছে- আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি। তাই তাদের প্রতিরোধে ছাত্রদল বদ্ধপরিকর।