খুলনায় বাবা-মেয়ে হত্যা : ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

২৪ জুলাই, ২০২৬

খুলনার লবণচরা এলাকায় ২০১৫ সালে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক দুটি মামলায় এ রায় দেন। রায়ে হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। তবে ধর্ষণ মামলায় ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন- মো. লিটন, শরিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম পিটিল, আজিজুর রহমান পলাশ এবং আবু সাঈদ। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। বাদীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচরা এলাকার বুড়ো মৌলভীর দরগাহপাড়ার একটি বাসায় ইলিয়াস চৌধুরী ও তার মেয়ে পারভীন সুলতানাকে হত্যা করা হয়। পরে তাদের মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পারভীনের ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব লবণচরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. লিটন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার আগে পারভীন সুলতানাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। এরপর ঘটনার চার দিন পর ২২ সেপ্টেম্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে পৃথক মামলা করা হয়।

দুইটি মামলারই বিচার শেষে ২০১৯ সালে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করেন। ওই রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।