২৫ জুলাই, ২০২৬
ইয়ুর্গেন ক্লপকে জার্মানির জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)। এক বিবৃতিতে ডিএফবি জানায়, ৫৯ বছর বয়সী ক্লপের সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
বিরতি দিয়ে ডাগআউটে ফেরার আগেই যেন চেনা মেজাজে ক্লপ। দল পুনর্গঠনের ছক বা ট্যাকটিক্সের চেয়েও বিস্ফোরক এক হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ঝড় তুলেছেন লিভারপুলের সাবেক কিংবদন্তি কোচ। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ক্লপ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত জীবনে মিডিয়া বেশি নাক গলালে কিংবা সীমানা পার করলে কোনো রকম দ্বিতীয়বার না ভেবে তাৎক্ষণিক পদত্যাগ করবেন তিনি।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের কাছে অভাবনীয় হারের পর সম্প্রতি পদত্যাগ করেন জুলিয়ান নাগেলসমান। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ক্লপকে চার বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় জার্মানি।
জার্মানির কোচ হিসেবে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই গণমাধ্যমকে কড়া বার্তা দিয়ে বসেন তিনি। ক্লপ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আপনারা যদি সীমা লঙ্ঘন করেন এবং আমার পরিবারকে শান্তিতে থাকতে না দেন, তবে আমি কাজ ছেড়ে চলে যাব। স্রেফ মুখ ফিরিয়ে নেব। আমি জানি আরও কিছু দেশ আছে যেখানে জাতীয় দলের কোচদের এর চেয়েও বাজে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমি এই কাজটাকে ভালোবাসি, তবে প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো মুহূর্তে সরে দাঁড়াতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।’
ক্লপের এই নিয়োগ অবশ্য বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বহুল প্রত্যাশিত ছিল। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বহাল থাকা এই চুক্তির মেয়াদ নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘জাতীয় দলের পর্ব শেষ হওয়ার পর ইয়ুর্গেন ক্লপের আর নতুন করে কোনো “কোচিং ক্যারিয়ার থাকবে না। কোচ হিসেবে এটিই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত চূড়া ও সর্বোচ্চ ধাপ। নিজের ভেতরের সবটুকু উজাড় করে দেব আমি।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ‘মানসিক শক্তির ঘাটতি’-র অজুহাতে লিভারপুলের ৯ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টেনেছিলেন ক্লপ। তারপর এটিই হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রথম কোনো ডাগআউট মিশন।
ফুটবলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্লপ জানান, কোচের বক্সে ফেরার জন্য এখন সময়টা একদম উপযুক্ত। তিনি বলেন, গত কয়েকটা দিন আমার কাছে মনে হচ্ছিল যেন নিজের জীবন নিয়ে কোনো সিনেমা দেখছি! আমি সবসময় ভাবতাম জার্মানির প্রধান কোচের দায়িত্বটা বিশাল বড়, কিন্তু এখন পদে বসে অনুধাবন করতে পারছি জাতীয় দলের কোচ হওয়া আসলে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ। বহু বছর ধরে আমার পক্ষে এই পদে বসার কথা ভাবাও অসম্ভব ছিল। তবে বছরের পর বছর যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে আজ হোক বা কাল, আমাকে এই দায়িত্বের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে। আর আমার মনে হয়, ফিরে আসার এটাই সঠিক সময়।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ইউয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়ে জার্মানি কোচ হিসেবে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করবেন ক্লপ।