২৫ জুলাই, ২০২৬
ফ্রান্সের পর এবার ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়েছে স্পেন। রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া একাধিক আগুন একত্রিত হয়ে বড় ধরনের দাবানলে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) মাদ্রিদ ও পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশে দাবানল মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। দেশটির ইতিহাসে শুধু দাবানলের কারণে এমন সিদ্ধান্ত এই প্রথম।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজারো দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও প্রবল বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্পেনে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি জানিয়েছেন, দাবানলের কারণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত অনেক রেস্তোরাঁয় ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
স্পেন সরকারের বরাত দিয়ে জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রথমে সান মার্তিন ও ভিয়া দেল প্রাদো এলাকায় দাবানলের সূত্রপাত হয়। শুক্রবার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হয়। পরে তা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
জার্মান সংবাদমাধ্যম টাগেসশাউয়ের খবরে বলা হয়েছে, দাবানলের কারণে মাদ্রিদ-সংলগ্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেককে স্কুল ও জিমনেশিয়ামের মেঝেতে রাত কাটাতে হচ্ছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ উল্লেখ করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থার আওতায় চারটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গ্রিস দুটি বিমান পাঠাতে সম্মতি দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেন, শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে প্রবল বাতাসের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল। এরপরও সব ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত অর্থ ও সম্পদ ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি স্পেনের সামরিক বাহিনীর দুর্যোগ মোকাবিলা ইউনিটের সহায়তায় উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।