এপস্টাইনের আরেক সহযোগীর মৃত্যু, রহস্য কি?

২৫ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত মডেলিং স্কাউট দানিয়েল সিয়াদকে নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ৬৯ বছর বয়সী এই ফরাসি নাগরিকের মরদেহ প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহরতলি কলোম্বের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। নানতেরের প্রসিকিউটরের কার্যালয় বিবিসিকে জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন সরকারের প্রকাশিত এপস্টাইন সংক্রান্ত গোপন নথিতে দানিয়েল সিয়াদের নাম হাজার হাজার বার উঠে এসেছে। নথিতে প্রকাশিত একটি ইমেইলে সিয়াদকে  এপস্টাইনের কাছে মডেলিং জগতের তরুণীদের পাঠানোর ইঙ্গিত দিতে দেখা যায়। যদিও সিয়াদ সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে তিনি এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

অন্যদিকে, এপস্টাইনের শিকারদের একজন বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে সিয়াদই তাকে অ্যাপস্টাইনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সিয়াদকে একজন পেশাদার পাচারকারী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এপস্টাইনের সঙ্গে নাম জড়ানোর পাশাপাশি ফরাসি পুলিশের কাছে সিয়াদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ দায়ের করা হয়, তবে তিনি এসব অভিযোগও বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন।

সিয়াদের অকালমৃত্যুতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁদের আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, পুলিশি জেরার আগেই সিয়াদের মৃত্যু হওয়ায় এপস্টাইন ও তাঁর আন্তঃদেশীয় চক্রের বহু গোপন তথ্য আড়ালেই রয়ে গেল। ভুক্তভোগীদের পক্ষের আইনি প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, দীর্ঘসূত্রী তদন্তের কারণে পুলিশ সিয়াদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আগেই তিনি মারা যান, যা ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করল।

জেফ্রি এপস্টাইনের আরও এক ঘনিষ্ঠ ফরাসি সহযোগী এবং মডেলিং এজেন্ট জাঁ-লুক ব্রুনেলকে ২০২২ সালে প্যারিসের একটি জেলখানায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। মানবপাচার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্তাধীন অবস্থায় বন্দি ছিলেন ব্রুনেল। এর আগে মূল অভিযুক্ত জেফ্রি  এপস্টাইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন আত্মহত্যা করেন।