উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডেভিড

২৬ জুলাই, ২০২৬

পাকিস্তানের রহস্য স্পিনার উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার তার বলে আউট হওয়ার পর অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান টিম ডেভিড।

ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেড-এ শুক্রবার বার্মিংহাম ফিনিক্সের বিপক্ষে ম্যাচে তারিকের বলে কট বিহাইন্ড হন ট্রেন্ট রকেটসের এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে ‘নো বল’ দেওয়ার ইঙ্গিত করেন তিনি। তবে আম্পায়ার তার আবেদন নাকচ করে দেন। ডেভিড প্রথমে রিভিউ নেওয়ার কথা ভাবলেও পরে সিদ্ধান্ত বদলান।

এই ম্যাচে মাত্র ৩ বলে ২ রান করে ফেরেন ডেভিড। ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১০ রানে হেরে যায় ট্রেন্ট রকেটস।

আধুনিক রহস্য স্পিনারদের মতো ক্যারম বলসহ নানা বৈচিত্র্য রয়েছে উসমান তারিকের বোলিংয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত তার অস্বাভাবিক অ্যাকশন। রানআপ শেষে ডেলিভারির ঠিক আগে কয়েক সেকেন্ড থেমে গিয়ে অনেকটা সাইড-আর্ম বা স্লিংয়ের মতো ভঙ্গিতে বল করেন তিনি, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

এর আগেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তারিকের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। আউট হওয়ার পর বেসবল খেলোয়াড়দের মতো বল ছোড়ার ভঙ্গি করে তিনি তারিককে বিদ্রূপ করেছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি শিশুর কান্নার ভিডিও পোস্ট করে সেই ঘটনার জবাব দেন পাকিস্তানি স্পিনার।

তবে বিতর্কের মধ্যেও স্বস্তির খবর তারিকের জন্য। ২০২৪ ও ২০২৫ পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আম্পায়াররা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট করলেও, পরীক্ষায় দুইবারই তার অ্যাকশন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

গত বছর এক সাক্ষাৎকারে উসমান তারিক দাবি করেছিলেন, তার ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশন ইচ্ছাকৃত নয়, বরং জন্মগত শারীরিক গঠনের কারণেই এমনটি হয়ে থাকে।

তার ভাষায়, ‘আমার শরীরের গঠন একটু আলাদা। অনেকে মনে করেন আমি ইচ্ছা করে হাত বাঁকাই, কিন্তু বিষয়টি জন্মগত। পরীক্ষা করিয়েও সেটি নিশ্চিত হয়েছি।’