রাসায়নিক শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়তার দাবি

২৬ জুলাই, ২০২৬

দেশীয় রাসায়নিক শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে শুল্ক কাঠামোর যৌক্তিক সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ এবং নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

একই সঙ্গে শিল্প খাতের টেকসই বিকাশে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরো সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানীতে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাসায়নিক শিল্প: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে সরকার বিদ্যমান শুল্কহার ধাপে ধাপে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনছে। পাশাপাশি বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। এর ফলে লাইসেন্স গ্রহণে সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং উদ্যোক্তারা দ্রুত এ ব্যবস্থার সুফল ভোগ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাসায়নিক শিল্প বর্তমানে কৃষি, ওষুধ, তৈরি পোশাক, চামড়া, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শিল্পে পরিণত হয়েছে। তবে কাঁচামালের উচ্চ ব্যয়, নীতিগত জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে খাতটি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে দেশীয় উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি রপ্তানির নতুন সুযোগও সৃষ্টি হবে।

সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। রাসায়নিক ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং শিল্প খাতে কোনোভাবেই ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান পরিবেশগত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করলে শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআইর সাবেক ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আলহাজ আব্দুস সালাম বলেন, দেশীয় শিল্পকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করতে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

ডিসিসিআই সদস্য এম এস সিদ্দিকী বলেন, রাসায়নিক শিল্প দেশের উৎপাদন খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ খাতের বিকাশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারি বিভিন্ন সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার ফলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হচ্ছে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সিং অনলাইন হওয়ায় উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় কমবে, যা শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সেমিনারে ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, রাসায়নিক শিল্পের উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।