ভয়াবহ দাবানলে ফ্রান্স-স্পেনে ঘরছাড়া ৩ লাখ মানুষ

২৬ জুলাই, ২০২৬

ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স ও স্পেনে। প্রবল বাতাস ও তীব্র দাবদাহের কারণে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। ‍দুদেশের প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ নিরাপদে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ফ্রান্সে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অগ্নিশিখা এখন বোর্দো শহরের দিকে এগোচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক ফরাসি কর্মকর্তা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য থেকে তারা এখনও অনেক দূরে অবস্থান করছেন।

এদিকে দাবানলে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে স্পেনেও। দেশটিতে ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ভ্যালেন্সিয়া এলাকার কর্তৃপক্ষ দাবানলে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। মানিসেসের সল্ট দে ল'আইগুয়া গিরিখাত এলাকা থেকে ৭০ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে তার গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ফ্রান্স ও স্পেন ছাড়াও ইতালির সিসিলি দ্বীপে অন্তত ৩৫০টি স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১০টি বড় ধরনের দাবানলে রূপ নিয়েছে। এমনকি স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগর্মস ন্যাশনাল পার্কেও ১০ দিন ধরে চলা দাবানল মোকাবিলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ।

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে শনিবার গভীর রাতে নতুন করে আরও ৫৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। ফ্রান্সে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে দমকলকর্মী ক্যাপ্টেন নিকোলাস ব্রাজ এএফপি-কে বলেন, আগুন এতটাই ভয়াবহ যে দাবানলটি নিজস্ব বাতাস ও ঘূর্ণিবাতাস তৈরি করছে। আগুনের গতিপথ অনিয়মিত এবং নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা তৈরির জন্য সেনাবাহিনী থেকে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি নিজ মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী মাদ্রিদ ও আভিলা অঞ্চল থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২৮ হাজারের বেশি মানুষ নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, চলতি বছর স্পেনে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে, যা গত এক দশকের বার্ষিক গড় হিসাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাজা লাহবিব সতর্ক করে বলেছেন, চলতি মৌসুমে দাবানলে ইউরোপের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় ফ্রান্স ইইউর বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো থেকে অগ্নিনির্বাপক বিমান, বিশেষ হেলিকপ্টার ও অগ্নিনির্বাপণ সদস্য পাঠানো শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।