২৬ জুলাই, ২০২৬
ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অভূতপূর্ব শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি ভিন্ন কৌশলে হাজির হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে ইনস্টাগ্রামে পর পর দুটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। আর এর মাধ্যমেই গড়লেন বিশ্বরেকর্ড।
প্রথম ভিডিওটি পোস্ট করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি (৩০ কোটির বেশি) ভিউ পেয়ে প্ল্যাটফর্মটির একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন মোদি।
সদ্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন যখন উত্তাল, ঠিক তখনই এই বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ জেন-জি প্রজন্মের জনপ্রিয় শর্টভিডিও ফরম্যাট বেছে নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে এই ভিডিও দুটি শুট করেন ৭৫ বছর বয়সি এই ভারতীয় নেতা।
এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলের সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার ‘আইশোস্পিড’-এর দখলে, যা তিনি চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড ‘বিটিএস’-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ধারণ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, এই আন্দোলনের সূত্রপাত ভারতের নিট মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষাটি প্রশ্নফাঁসের তথ্যপ্রমাণ মেলার পর ১২ মে বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ মে আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন করেন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানির সময় বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করার পর এই ব্যঙ্গাত্মক নামটি বেছে নেওয়া হয়। এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২ কোটি অনুসারী যুক্ত করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী গণপদযাত্রার ডাক দেয়।
শেষ পর্যন্ত সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরের দিকে পদত্যাগ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে ধর্মেন্দ্র নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে, ১০০ মিলিয়নেরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির এমন সেলফি ভিডিও বা রিল পোস্ট করার ঘটনা বেশ বিরল, কারণ ঐতিহ্যগতভাবেই তিনি আনুষ্ঠানিক ভাষণ ও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অভ্যস্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মোদির জীবনীকার নিলঞ্জন মুখোপাধ্যায় ব্লুমবার্গকে জানান, এই আন্দোলনের ধাক্কায় প্রধানমন্ত্রীকে বেশ দিশেহারা বা ‘হিমশিম খেতে’ দেখা গেছে। যদিও মোদির দল থেকে দাবি করা হয়, তরুণদের সঙ্গে একটু হালকা মেজাজে সংযোগ তৈরির জন্যই এই ভিডিওগুলো করা হয়েছিল।
রেকর্ড পরিমাণ ভিউ পাওয়ার এই ঘটনা প্রমাণ করে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসার কতটা বিশাল।