২৭ জুলাই, ২০২৬
কমনওয়েলথ গেমস মানেই শুধু বিশ্বের সেরা ক্রীড়াবিদদের প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের মিলনমেলারও এক অনন্য উপলক্ষ। গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসকে ঘিরে সেই আবহে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটি। ক্রীড়াঙ্গনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের উৎসাহ দেওয়া থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক আয়োজন, অতিথি আপ্যায়ন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার নানা উদ্যোগে সরব হয়ে উঠেছেন প্রবাসীরা।
স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশী কমিউনিটির অন্যতম প্রধান সংগঠন দ্য বাংলা সেন্টার (Bangla Centre SCIO)। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি বাংলা ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সহায়তা, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশ এবং বাংলাদেশি ঐতিহ্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন গ্লাসগো (BAG) এবং অন্যান্য সংগঠনও প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, বাংলা নববর্ষ ও ঈদসহ বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে এবারো বাংলাদেশি কমিউনিটি ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। গেমস শুরুর আগ থেকেই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং বাংলাদেশ দলের প্রতি সমর্থন জানাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে গ্লাসগোর বাংলা সেন্টারের উদ্যোগে কমনওয়েলথ গেমসে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের অ্যাথলেট, কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনার মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করেন।
সংবর্ধনাকে ঘিরে বাংলা সেন্টারের উদ্যোগ আয়োজন করা হয় ‘বাংলা মেলা’। সেখানে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নৃত্য এবং পারিবারিক মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। শিশু থেকে প্রবীণ- সব বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ তৈরি হয় গ্লাসগোতে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে স্কটল্যান্ডের বহুজাতিক পরিবেশে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের প্রতি সংহতি প্রকাশই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসী নাফিজ জানান, কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসর শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় বিশ্বের সামনে তুলে ধরারও একটি বড় সুযোগ। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্লাসগোর বাংলাদেশি কমিউনিটি প্রমাণ করেছে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও লাল-সবুজের প্রতি তাদের ভালোবাসা, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের বন্ধন আজও সমান অটুট।
তিনি জানান, গ্লাসগোতে বাংলাদেশিদের বসতি গড়ে ওঠে মূলত ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে। শুরুতে অধিকাংশই সিলেট অঞ্চল থেকে এসে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ও সেবাখাতে যুক্ত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিরা চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, সরকারি-বেসরকারি চাকরি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আজ গ্লাসগোর বাংলাদেশি কমিউনিটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পোলকশিল্ডস, গোভানহিল, স্প্রিংবার্ন, ক্যাম্বাসল্যাং এবং শহরের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এসব এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্ক। কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে এবারো বাংলাদেশি কমিউনিটি ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। গেমস শুরুর আগ থেকেই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং বাংলাদেশ দলের প্রতি সমর্থন জানাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।