যেভাবে মৃত নদীকে বাঁচালো চীন

২৮ জুলাই, ২০২৬

অভিশাপ থেকে আশার আলো! ৬ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ চীনের প্রাণপ্রবাহ ইয়াংসি নদী আজ যেন আবার এক নতুন ভোরের দেখা পাচ্ছে।তিব্বতের হিমশীতল মালভূমি থেকে উঠে এসে যা মিশেছে বিশাল সমুদ্রে, সেই মাদার রিভার বছরের পর বছর সহ্য করেছে মানুষের নির্মম অত্যাচার। বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য, অবাধ্য দূষণ আর মাত্রাতিরিক্ত মাছ শিকারের ফলে যে নদীটি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল; যেখানে হারিয়ে গিয়েছিল বিরল বেইজি ডলফিন আর দানবীয় প্যাডেলফিশের মতো অদ্ভুত সব প্রাণী; সেই ইয়াংসি নদীই এখন অবিশ্বাস্য এক রূপান্তরের গল্প লিখছে।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে অলৌকিক সত্যি।

বিগত সাত দশকের টানা পতনের পর হঠাৎ করেই নদীর মাছের পরিমাণ বেড়ে গেছে ২০০ শতাংশেরও বেশি! দুই দশক পর বন্য পরিবেশে আবার দেখা মিলছে বিরল স্টারজিয়ন মাছের প্রজনন, আর পানির বুকে ভেসে উঠছে হাসি মুখের মতো দেখতে এক হাজার চারশরও বেশি ফিনল্যাস পোর্পোইস। কিন্তু এই রূপান্তর কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।

চীনের ১০ বছরের কঠোর মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা, ড্রোনের সার্বক্ষণিক নজরদারি, হাজার হাজার কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেওয়া আর লাখ লাখ গাছ লাগিয়ে মাটিকে সংহত করার ফলেই প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এই মৃতপ্রায় নদী।

তবে এই সাফল্যের উল্টো পিঠে জমা হয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের নীরব কান্না।

যে নদীর বুকে ভিটেমাটি গড়ে তুলেছিলেন ২ লাখ ৩০ হাজার জেলে, রাতারাতি কাজ হারিয়ে আজ তারা দিশেহারা। রাষ্ট্রীয় সাহায্যের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবের মাটিতে জিনসিয়ান কাউন্টির প্রতি পাঁচজন জেলের মধ্যে কেবল একজন পেয়েছেন ক্ষতিপূরণ। বাঁচার তাগিদে নদী ছেড়ে বড় শহরের ভিড়ে দিনমজুরির খাতায় নাম লেখাতে হয়েছে বহু মানুষকে। সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তে নিজের চিরচেনা জীবন হারানোর এক তীব্র ক্ষোভ এখনও ভেসে বেড়াচ্ছে ইয়াংসির বাতাসে।

একদিকে পরিবেশের পুনর্জন্ম, অন্যদিকে থ্রি গর্জেসের মতো বিশাল সব বাঁধ আর পোয়াং হ্রদের নতুন বাঁধ প্রকল্পের কালো ছায়া। বাঁধের কারণে থমকে যাওয়া পানির স্রোত আর মানুষের হারানো জীবিকার করুণ সুরকে সঙ্গে নিয়েই আজকের ইয়াংসি ছুটে চলেছে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে; যা আমাদের দেখিয়ে দেয়, প্রকৃতির এই ফিরে আসার গল্পের পেছনের নির্মম মূল্য ঠিক কতটা চড়া!