৩০ জুলাই, ২০২৬
ধীরে ধীরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। তথ্য খোঁজা থেকে কেনাকাটা, সিদ্ধান্তে সহায়তা থেকে প্রশ্নের উত্তর, বিভিন্ন কাজে দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার।তবে এআই ঠিক অঙ্কের মতো সূত্র মেনে সবসময় একই উত্তর দিবে বিষয়টি এমন নয় মোটেও। তারা মানুষের থেকে একে একে রপ্ত করে নিচ্ছে মানুষের বিচিত্র চরিত্র।
এআইয়ের উত্তর অনেক সময় নিরপেক্ষ তথ্যের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ, নীতিগত সীমাবদ্ধতা কিংবা প্রতিষ্ঠানের অবস্থানের উপর নির্ভর করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এক গবেষণা এবার দেখিয়েছে, অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের এআই শপিং সহকারী ভুয়া ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেবেল শনাক্ত করতে পারলেও সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয় না।
অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের এআইভিত্তিক শপিং সহকারী শনাক্ত করতে পারে পণ্যের ’মেড ইন ইউএসএ’ দাবিতে অসঙ্গতি। তবে তা সত্ত্বেও ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর লেবেলযুক্ত পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রতিষ্ঠান দুটি। এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান লিনা খানের নেতৃত্বাধীন একটি থিংক ট্যাংকের নতুন গবেষণার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যামাজনের অ্যালেক্সা ফর শপিং (Alexa for Shopping) এবং ওয়ালমার্টের স্পার্কি (Sparky) পণ্যের তালিকায় ’মেড ইন ইউএসএ’ দাবি ও অন্য তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি শনাক্ত করতে পারে। তবে এসব সন্দেহজনক তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত বা অপসারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না প্রতিষ্ঠান দুটি।
এআই শপিং সহকারী হলো এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল সহকারী, যা অনলাইনে পণ্য খোঁজা, তুলনা করা, তথ্য ব্যাখ্যা করা এবং ক্রেতার প্রশ্নের উত্তর দিতে সহায়তা করে। এমনকি পণ্যের বিবরণ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতিও শনাক্ত করতে পারে।
গবেষকদের প্রশ্নের জবাবে ওয়ালমার্টের স্পার্কি জানিয়েছে, ’মেড ইন ইউএসএ’ সংক্রান্ত নিয়ম সাধারণত নির্মাতাদের ক্ষেত্রে এফটিসি প্রয়োগ করে, খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে নয়। তবে একই সঙ্গে এটি স্বীকার করেছে, এটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।
গবেষকদের প্রশ্নের জবাবে ওয়ালমার্টের স্পার্কি জানিয়েছে, ‘মেড ইন ইউএসএ’–সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে সাধারণত নির্মাতাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হয়, খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নয়। তবে স্পার্কির ভাষ্য, সন্দেহজনক দাবির বিষয়ে সরব হবার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই; এটি মূলত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।
অ্যামাজনের এআই সহকারীও গবেষকদের জানিয়েছে, ভুয়া ’মেড ইন ইউএসএ’ দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্যের ব্র্যান্ডগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এ কারণে অ্যামাজনের নিজস্ব আর্থিক, বা সুনামগত ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত ব্যাপারটি চেপে যাওয়াা প্রতিষ্ঠানটির জন্য সহজ।
ওয়ালমার্ট এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। অ্যামাজনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যেখানে সম্ভব সেখানে পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত তথ্য দেখানো হয় এবং গ্রাহকদের জন্য এই তথ্য আরও সহজলভ্য করতে অ্যালেক্সা ফর শপিং-কে উন্নত করার কাজ চলছে।
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা লিনা খান বলেন, এআই প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, ব্যবসায়িক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে প্রযুক্তিটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে। তাই জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যকে ’মেড ইন ইউএসএ’ হিসেবে প্রচার করতে হলে সেটি সম্পূর্ণ বা প্রায় সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে হবে। গত বছর সংস্থাটি তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের এমন দাবি আরও কঠোরভাবে যাচাই করতে আহ্বান জানিয়েছিল অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টকে।