৩১ জুলাই, ২০২৬
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় মরক্কো থেকে হাজারো অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমুদ্রপথে সাঁতরে, সীমান্তের পাথরের বাঁধ ঘুরে এবং সীমান্তের বেড়া অতিক্রম করে সেউতায় ঢুকে পড়েন। ঘটনাটি সামাল দিতে স্পেন অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় স্প্যানিশ টেলিভিশনের হিসাবে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছেন। তবে এ সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। সেউতার সীমান্তে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢুকে পড়ায় স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায়।
সেউতার কর্মকর্তারা জানান, অনেক অভিবাসী সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কেউ ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে সাঁতরে উপকূলে পৌঁছান, আবার কেউ তারাহাল এলাকার সীমান্তের পাথুরে বাঁধ ও বেড়া অতিক্রম করে স্পেনের ভূখণ্ডে ঢোকেন।
সমুদ্রে থাকা অভিবাসীদের উদ্ধারে স্পেনের সিভিল গার্ড, মেরিটাইম রেসকিউ সার্ভিস ও রেড ক্রসের সদস্যরা নৌকা নিয়ে কাজ করেন। কয়েক দিনের মধ্যে সমুদ্রপথে দেড় হাজারের বেশি অভিবাসী সেউতায় পৌঁছেছেন বলে এর আগে সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস জানিয়েছিলেন।
বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রবেশ করায় সেউতার অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত চাপে পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে সংকটজনক বলে বর্ণনা করেছে এবং অতিরিক্ত জনবল ও সহায়তার জন্য স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান ভিভাস জানিয়েছেন, গত এক বছরে এই পথে সমুদ্রে প্রায় ৬০টি মরদেহ দেখা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেনের সরকার অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানোর পাশাপাশি সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সেউতা সফরের কথাও জানানো হয়েছে।
সেউতা আফ্রিকার ভূখণ্ডে অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকার সঙ্গে একমাত্র দুটি স্থলসীমান্তের একটি। এর আগে ২০২১ সালেও মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন।