দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করেছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

৩১ জুলাই, ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং পরিবেশ দূষণের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির এই সময়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়া শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নৈতিক অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।

এই অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দিতে দেশব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। লালমনিরহাটে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আসাদুল হাবিব দুলু এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনায়ন সম্প্রসারণ এবং একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই মাস্তুল ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য। ইতোমধ্যে দেশের ৩৮ টি জেলায় হাজারো বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, ‘‘আমাদের সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। পরিবেশ রক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের আমানত। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় এগিয়ে আসতে হবে। আজ আমরা যে গাছ লাগাব, আগামী প্রজন্ম তার সুফল ভোগ করবে।’’ 

পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকার বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি গাছ রোপণ মানেই ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর ভিত্তি স্থাপন। তাই দেশের সকল নাগরিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে এই সবুজ আন্দোলনের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মানবিক সেবার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংস্থা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— করোনা মহামারিতে মরদেহ দাফন সেবা, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের বন্যায় ত্রাণ বিতরণ, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, ‘যাকাত স্বাবলম্বী’ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং ‘মেহমানখানা’ উদ্যোগে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ। এছাড়া তুরস্কের ভূমিকম্প, গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। ঢাকার হাজারীবাগে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টার হোম ও এতিমখানা পরিচালনা করছে।