ইউজিসির বৃত্তি পেলেন সিকৃবির ৬ শিক্ষার্থী

৩১ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) জাতীয় মেধাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ছয়টি অনুষদের ছয়জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে তারা এ মেধাবৃত্তি পেয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন সিকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলিমুল ইসলাম।

এ সময় উপাচার্য বলেন, “এই অর্জন শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও শিক্ষা, গবেষণা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক এ. টি. এম. মাহবুব-ই-ইলাহী এবং প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সামিউল আহসান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি অনুষদ থেকে একজন করে মেধাবৃত্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা ইউজিসিতে পাঠানো হয়।

এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থী এক বছরের জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হিসেবে মোট ২৪ হাজার টাকা এবং বই-পুস্তক কেনার জন্য এককালীন ২ হাজার টাকাসহ মোট ২৬ হাজার টাকা করে বৃত্তি পাবেন। ছয়জন শিক্ষার্থীর জন্য ইউজিসির মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের মারজানা মৌরিন জুঁই, কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সেবিকা দে, ফিশারিজ অনুষদের ফিশ হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রিদিমা আহমেদ রিয়া, কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কৃষি অর্থনীতি ও নীতি বিভাগের ইকরাম হোসেন ইমন, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সুমাইয়া আক্তার এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের মাইক্রোবিয়াল বায়োটেকনোলজি বিভাগের ফারিহা হুমায়রা রাফা।

এবার নির্বাচিত ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজনই নারী। কৃষি ও বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রতিফলন হিসেবে বিষয়টিকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ইউজিসির এই মেধাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরো উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।