সমগ্র ভারত জুড়ে সংগঠন বিস্তারের পথে সিজেপি

০২ আগস্ট, ২০২৬

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় উঠে আসা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবার জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, আপাতত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং দেশের প্রতিটি জেলায় সংগঠন বিস্তারের মাধ্যমে যুবসমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

নয়াদিল্লিতে এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ দাস বলেন, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যাকে সামনে রেখে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে চায় সিজেপি। এ উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা ও গণশুনানির আয়োজনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রচার অল্প সময়ের মধ্যেই বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হয় সংগঠনটি। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিরোধিতা করে সংযম ও সহনশীলতার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আদালত বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ একমাত্র সমাধান নয়।

অন্যদিকে, সিজেপি জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে তারা একটি ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। সংগঠনের দাবি, ইতিমধ্যেই শতাধিক ছবি, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ জমা পড়েছে।

এদিকে, বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী সংসদে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি দাবি করেছেন। সিজেপির মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো মন্ত্রীই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন এবং জনগণের স্বার্থে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির মূল কেন্দ্রবিন্দু।