নরসিংদীতে স্কুল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২ যুবক গ্রেফতার

০৪ আগস্ট, ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

সোমবার উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার দুই যুবক হলেন- রায়পুরা উপজেলার চরমরজাল গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে দিপু মিয়া (২২) ও একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব হাসান রুবেল (২৬)।

জানা গেছে, শনিবার রাতে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ধর্ষণের ঘটনা মোবাইলে তারা ভিডিও ধারণ করে এবং এই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। 

এমন অভিযোগে রায়পুরা থানায় গত রবিবার ধর্ষণের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীর মা বাদি হয়ে চরমরজাল গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রুবেল ও একই গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে দিপু, ফুলদী গ্রামের আফা মিয়ার ছেলে জসিম (২৪) ও নরসিংদী সদর উপজেলার আক্কার (২২) মামলা দায়ের করেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রায়পুরা থানা পুলিশ সোমবার দুপুরে দিপু ও রুবেলকে মরজাল ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।

মামলার অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, স্থানীয় কাজী মোহাম্মদ বশির উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে রিয়াম (১৭) নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে চরমরজাল গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার বাড়ির বাড়ির সামনে গেলে স্থানীয় চার যুবক রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী এক পুকুর পাড়ে। সেখানে মেয়েটিকে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং ধর্ষণের চিত্র ভিডিওতে ধারণ করে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। রাত প্রায় দুইটার দিকে মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার মায়ের কাছে এই ঘটনা জানায়। পরের দিন মেয়েটির মা বাদি হয়ে রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ্য করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর সোমবার দুই আসামি দিপু ও রুবেলকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।