০৬ আগস্ট, ২০২৬
তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝে দর্শনার্থীদের স্বস্তিেএনে দিতে বেইজিংয়ের ১৪টি পৌর পার্কে ৭২ জন রোবট কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও টহলের পাশাপাশি পার্কে আসা মানুষকে পথ দেখিয়ে দেওয়া, ক্ষতিকর পোকামাকড় শনাক্ত এবং অনুপযুক্ত আচরণ রোধের মতো বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছে।
সামার প্যালেসে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কাজের এলাকা নির্ধারণ ও পরিষ্কারের মোড নির্বাচন করার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই রোবটগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারে। লিডার সিস্টেম ও সেন্সরযুক্ত এই রোবটগুলো রিয়েল-টাইমে বা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চারপাশের পরিবেশ বুঝতে পারে এবং চলার পথে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য তাদের পাশের ব্রাশগুলো ক্রমাগত ভেতরের দিকে ঝাড়ু দিতে থাকে।
রোবটগুলো কিনারা বা প্রান্ত পরিষ্কার করতে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটাতে সক্ষম; এছাড়া আবর্জনার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে তারা পরিষ্কারের তীব্রতাও পরিবর্তন করতে পারে। পাশাপাশি, পথচারী ও যানবাহন এড়িয়ে চলার সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
পার্কটিতে বুদ্ধিমান ট্যুর গাইড রোবটও যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে থেকে নির্ধারিত পথে ঘোরার সময় বিভিন্ন তথ্য বা ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে, দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তাদের মনে করিয়ে দিতে পারে।
ইউইউয়ানতান পার্কে ১১টি রোবট তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। ১.৫ মিটার উচ্চতার একটি সাদা রঙের টহলদানকারী রোবট দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যেও সাবলীলভাবে চলাচল করতে পারে। ১০টিরও বেশি উচ্চ-নির্ভুল এআই মডেল, বাহ্যিক সেন্সিং রাডার এবং শনাক্তকারী ক্যামেরায় সজ্জিত এই রোবটটি ধূমপানের মতো আচরণ শনাক্ত করতে এবং আগে থেকে রেকর্ড করা অডিও বার্তার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সতর্ক করতে সক্ষম।
এদিকে জিঝুউয়ান পার্কে চার ধরনের ‘স্মার্ট ব্রিদিং’ বা ‘বুদ্ধিমান শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণকারী’ রোবট চালু করা হয়েছে। এগুলো মানুষের নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই-অক্সাইডের অনুকরণ করে মশা আকৃষ্ট ও বন্দী করে, যার ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় মশার উপদ্রব কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়।
জিঝুউয়ান পার্কের কর্মী শু জিলিং ‘গ্লোবাল টাইমস’-কে জানান যে, মশা ধরার রোবটসহ বিভিন্ন স্মার্ট সরঞ্জামের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ধ্যায় ঘাসযুক্ত এলাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি নিয়ে দর্শনার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কীটপতঙ্গ পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত এই রোবটগুলো মূলত বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎকালে আলো-নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাজ করে। শীতকালে পোকামাকড় যখন সুপ্তাবস্থায় চলে যায়, তখন থেকে শুরু করে পরের বছরের ‘জিংঝে’ বা পোকামাকড়ের জেগে ওঠার সময় পর্যন্ত এই যন্ত্রগুলোর কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকে, যা পরিবেশবান্ধব রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে।
২০২৪ সালে বেইজিংয়ে রোবট ব্যবহারের এই কার্যক্রমটি শুরু হয়েছিল। ওই সময় ‘ইউইউয়ানতান পার্কে’ প্রথম ‘রোবট ও ল্যান্ডস্কেপিং’ বিষয়ক পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। গত দুই বছরে সেখানে ১৮টি কোম্পানির ২৩টি রোবোটিক যন্ত্রের মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং সফল প্রযুক্তিগুলোকে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পার্কেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পার্কের রোবটগুলোর কার্যক্রম-সংক্রান্ত তথ্য বা ডেটা একত্রিত করার পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষ্য হলো পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শহরের ল্যান্ডস্কেপিং ও পার্ক ব্যবস্থাপনায় রোবোটিক্সের ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত করা।
সূত্র: গ্লোবাল টাইমস, আনাদোলু এজেন্সি।