৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাছাত্র আটক

০৭ আগস্ট, ২০২৬

কুষ্টিয়ার খোকসায় ৫ বছর শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। উপজেলা শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বসোয়া গ্রামে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে বাড়ি পাশের রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। গুরুতর অসুস্থ শিশু ছাত্রীটিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত সৈকতকে তার বাবা গ্রাম পুলিশ এরশাদ নিজে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। অভিযুক্ত সৈকত একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বাড়ি পাশাপাশি।   

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, বিকালে শিশুটির বাবা মা বাড়ির পাশের বিলে পাট ধোয়ার কাজ করছিলেন। এ সময় শিশুটি দাদা দাদির সাথে ঘরে শুয়ে ছিলো। এক পর্যায়ে শিশুটি সেখান থেকে উঠে গিয়ে রাস্তায় সাথীদের সাথে খেলায় মেতে ওঠে। এ সময় প্রতিবেশী গ্রাম পুলিশ এরশাদ আলীর ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র সৈকত আলী তাকে মায়ের কাছে পৌছিয়ে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। একটু দূরে একটি সোন খড়ের জমিতে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপর শিশুটিকে অসুস্থ্য অবস্থায় ছেড়ে দেয়। সে (শিশু)তার মা-বার কাছে গিয়ে ঘটনাটি জানায়। তারা অসুস্থ্য শিশুকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে। 

শিশুটির দাদি রাহেলা খাতুন বলেন, ছেলে ও বউ বিলে পাট ধোয়ার কাজ করছিলো। এ সময় শিশু নাতনি তাদের কাছে ঘরে ছিলো। এক পর্যায়ে শিশুটি খেলার জন্য রাস্তায় যায়। এ সময় এরশাদ চৌকিদারের ছেলে সৈকত রাস্তা থেকে শিশুটিকে বাবা মার কাছে পৌছিয়ে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। পথে একটি খেতের ভিতর নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এরপর শিশুকে চিপস ও লজেন্স কিনে দেবে বলে ভোলানোর চেষ্টা করে। 

অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে থাকায় শিশুটির বাবা মার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

ধর্ষকের বাবা এরশাদ চৌকিদারের ফোনে কথা হয়। তিনি জানান, ছেলে সৈকতকে থানায় গিয়ে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় খবরটি শোনার সাথে সাথে তিনি ছেলে সৈকতকে তাড়া করেন। ছেলে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে ছেলের নানি বাড়ি পাংশার থেকে ধরে এনে থানা ওসির হাতে সোপর্দ করেছেন। নিজের ছেলে দোষ করেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। 

শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নাসির জানান, তিনি শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি শুনেছেন। শিশুটিকে কুষ্টিয়ায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার সত্যতা জানতে থানা পুলিশের এসআই রাজু তাকে ফোন করেছিলেন।  

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির বলেন, অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের ছেলেকে পাশের উপজেলার পাংশা থেকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।