০৭ আগস্ট, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইয়াবার বিস্তারের কারণে দেশের যুবসমাজ মাদকাসক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে উপলব্ধি করছে সরকার। এ কারণে মাদকের চোরাচালান, বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
একই সঙ্গে জুয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার শহরের হিল ডাউন সার্কিট হাউজে জেলা আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কক্সবাজার হচ্ছে ইয়াবাসহ আরো অন্যান্য মাদক পাচারের রুট। কক্সবাজার থেকে দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক।
তাই টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের শীর্ষ মাদক কারবারি, মাদক চোরাকারবারি ও মূল হোতাদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ওই তালিকার ভিত্তিতেই সরকার পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব রুট ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান হয়, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ বাহিনী অথবা পৃথক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, স্থলপথের পাশাপাশি সমুদ্র ও নদীপথে মাদক পাচার রোধে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হবে। উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পূর্বে স্থাপিত ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার অনেকগুলো অকেজো হয়ে গেছে। সেগুলো দ্রুত সচল করা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পে সক্রিয় মাদক কারবারি ও মাদকের বাহকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, উখিয়া-টেকনাফ এলাকার জেলে ও নৌযানের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করা হবে। এর মাধ্যমে নৌপথে কোনো ধরনের চোরাচালান হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সভায় আরো জানানো হয়, শিপিং মন্ত্রণালয়ের উপকূলীয় এলাকার ১১টি নজরদারি টাওয়ার ব্যবহারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে। প্রতিটি টাওয়ারে কোস্ট গার্ডের একজন করে প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হবে, যাতে সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযানের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা যায়।
উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় বেড়ে যাওয়া অপহরণের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটছে সেখানে সেনাবাহিনীর অন্তত দুটি ক্যাম্প স্থাপনের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। যেকোনো মূল্যে অপহরণ বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানান।
সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ডগ স্কোয়াড ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ, প্রতিটি জেলায় মাদক শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি স্থাপন, হাজতখানা ও মালখানা নির্মাণ এবং এ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়। দ্রুত এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া মাদক প্রতিরোধে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান আরো জোরদার করার সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়েছে। সভায় স্হানীয় সংসদ সদস্য বৃন্দ, জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।