রুশ ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে কেন ব্যর্থ ইউক্রেন

০৭ আগস্ট, ২০২৬

ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে রাশিয়া যখনই কোনো ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে সেই প্রাণঘাতী হুমকি চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করার সময় থাকে মাত্র কয়েক মিনিট- কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ড।

সময়ের এই মারাত্মক ঘাটতির কারণে ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ অন্যান্য শহর ক্রমশ রাশিয়ার ভয়াবহ হামলার মুখে প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়ছে।

আকাশ থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ও খাড়াভাবে নেমে আসা এসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করার মতো সক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারই রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। তবে তাদের দাবি, পুরো দেশকে রক্ষা করার জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি এবং ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র) নেই।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথ সাধারণত বিমানের মতো হলেও, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয় রকেটের মতো। এরপর এগুলো শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে হঠাৎ করে লক্ষ্যবস্তুর ওপর খাড়াভাবে আছড়ে পড়ে।

গতিপথ এতটা খাড়া ও তীব্র হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। এর পরিণতিতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার (৫ আগস্ট) আবারো আঘাত হেনেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এই হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরো বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিশেষজ্ঞ থমাস উইথিংটনের মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা অনেকটা ক্রিকেট খেলায় ক্যাচ ধরার মতো। তিনি বলেন, “যখন ওয়ারহেডটি (ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরক অংশ) তার লক্ষ্যবস্তুর দিকে খাড়া হয়ে ধেয়ে আসে, তখন এর গতি থাকে অবিশ্বাস্য রকম বেশি। ক্যাচ খেলার সময় বল যদি খুব বেশি গতিতে আসে, তাহলে তা ধরা যেমন কঠিন, এটাও ঠিক তেমনই।”

রাশিয়ার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘ইস্কান্দার-এম’ তাদের প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া বিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘কিনঝাল’-ও এর অন্যতম উদাহরণ। পাশাপাশি রাশিয়ার এস-৩০০ এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকেও ভূমিতে হামলার জন্য ব্যালিস্টিক মোডে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে রুশ বাহিনী। অন্যদিকে ‘জিরকন’ মূলত হাইপারসনিক দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হলেও, এর অত্যাধিক গতির কারণে একে প্রতিরোধ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই কঠিন।