০৮ আগস্ট, ২০২৬
মরক্কোর জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ (সিএনডিএইচ) জানিয়েছে, স্পেন নিয়ন্ত্রিত সেউটা ছিটমহলে গত সপ্তাহের ব্যাপক অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে মরক্কোর অংশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছে পরিষদ।
এর আগে মরক্কোর অংশে নিহতের সংখ্যা ১১ জন বলে জানানো হয়েছিল। নতুন তথ্য অনুযায়ী, সেই সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছেছে।
সিএনডিএইচ সেউটায় অনিয়মিত অভিবাসীদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সমালোচনা করেছে। পরিষদ বলেছে, অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।
সংস্থাটির দাবি, সেউতার কর্তৃপক্ষ রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও বড় দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। এতে অভিবাসীরা খাবার ও পানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এ ছাড়া সেউটার ভেতরে অনিয়মিত অভিবাসীদের ওপর বর্ণবাদ ঘটনা নথিভুক্ত করার কথা জানিয়েছে সিএনডিএইচ। তাদের অভিযোগ, অভিবাসীদের জন্য দেওয়া সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা অপর্যাপ্ত ছিল।
পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় মোট ১৩৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের বেশির ভাগের হাড় ভেঙে যায় অথবা সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন হয়।
এদিকে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৭ সদস্যকে চিকিৎসা পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিষদ। তবে স্পেনের নিরাপত্তা বাহিনীর কতজন সদস্য আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে সিএনডিএইচ।
স্পেন নিয়ন্ত্রিত মেলিলা ছিটমহলের কাছে উত্তরাঞ্চলীয় শহর বেনি আনসারে পৃথক ঘটনায় ২৩ জনকে নাদোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক। একই ঘটনায় ১১ অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিচারিক তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ফনিদেক ও বেনি আনসার সীমান্ত এলাকায় ৬১টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১৫টি মোটরসাইকেল এবং মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ১৮টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিষদ।
২৯ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সেউটার সীমান্ত বেড়ার কাছে কয়েক হাজার মরক্কোর নাগরিক জড়ো হন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ছিটমহলটিতে প্রবেশের সবচেয়ে বড় অনিয়মিত অভিবাসন প্রচেষ্টা। পরে অধিকাংশ অভিবাসী মরক্কোর ফনিদেক শহরে ফিরে যান।
সোমবার সেউটা কর্তৃপক্ষ জানায়, গণঅনুপ্রবেশের পর ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ মরক্কোতে ফিরে গেলেও ছিটমহলটির ভেতরে এখনো ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি