কুষ্টিয়ায় পুত্রবধূকে নিয়ে দ্বন্দ্বে শাশুড়ি নিহত

০৯ আগস্ট, ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ফের ঘরে তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সংঘর্ষে আহত রাবেয়া খাতুন (৩৯) মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক মকছেদ আলীর স্ত্রী।

স্বজনদের ভাষ্য, তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনায় ক্ষুব্ধ হয়ে একই এলাকার আকুব্বর শেখের দুই ছেলে শরিফ হোসেন (২৬) ও রাকিবুল ইসলাম এবং চাঁদ আলীর ছেলে আসাদুল হোসেন (৩০) সহ তাদের সহপাঠীরা রাবেয়াকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয় ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তরা সম্পর্কে রাবেয়ার আপন ভাতিজা। 

নিহত রাবেয়ার স্বামী মকছেদ আলী বলেন, ভাতিজাদের না জানিয়ে ছেলের বউকে (পুত্রবধূ) বাড়ি নিয়ে আসেন আমার স্ত্রী। সেই রাগে ভাতিজা শরিফ, রাকিব, আসাদুলরা এসে হুট করে হামলা চালায়। এতে আমার আহত বউ আজ মেডিকেলে মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।

মামলার বাদী রাবেয়ার ভাই সাইদুল রহমান বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে ভাতিজারা মিলে রাবেয়াকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। অপরাধীদের সঠিক শাস্তির আশায় থানায় মামলা করেছি।  

এদিকে মৃত্যুর খবর শুনে গা ঢাকা দিয়ছে অভিযুক্ত ভাতিজারা। শনিবার বিকেলে সরেজমিন বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত রাকিবুলের স্ত্রী আর্জিনা খাতুন ও শরিফের স্ত্রী কাজলী খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তালাক দেওয়া বউ কাউকে না জানিয়ে ঘরে তোলেছে। আমাদের স্বামীরা এ কথা শুনতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওরা ( রাবেয়ার ছেলেরা) মারধর করে। পরে মারামারির ভিতরে কে কার মারেছে তা কেউ জানে না। স্বামীরা কাউকে হত্যা করেনি।' তাদের ভাষ্য, এ ঘটনায় তাদের স্বামীরা আহত হয়েছেন।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত রাবেয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।