০৯ আগস্ট, ২০২৬
দীর্ঘ ১৬ মাস পর পটুয়াখালীর কলাপাড়া হাসপাতালে ফের বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের সিজারিয়ান ওটি (অপারেশন থিয়েটার) কক্ষের ফিতা কেটে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিএনপির দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন।
এ সময় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং, মেডিকেল অফিসার বিবি মালাকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের চিকিৎসা সেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় তিনি জানান, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে সারা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে। কলাপাড়া হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, ‘দীর্ঘদিন সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এখন থেকে সীমিত পরিসরে হলেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত বৃহস্পতিবার কলাপাড়া হাসপাতালে বিনা খরচে সিজারিয়ান অপারেশন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই প্রসূতির বিনা খরচে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ কাজে চিকিৎসক ও সহকারীদের কোনো পারিশ্রমিক দিতে হবে না। তবে রোগীদের প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হতে পারে। কারণ হাসপাতালে সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ নেই।’
স্থানীয়রা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় হিসেবে দেখছেন তারা। তবে অভিযোগ রয়েছে, একটি দালালচক্র নানা কৌশলে প্রচার চালিয়ে প্রসূতিদের বাইরের ক্লিনিকে সিজার করাতে বাধ্য করছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে প্রসূতিদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।