০৯ আগস্ট, ২০২৬
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক ও ছাত্র বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রায় দুই সপ্তাহ পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশার ভুবনেশ্বরের জিএম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি দাবি করেন, নিট আন্দোলন চলাকালে জেন জি বা তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ‘বিভ্রান্ত’ করা হয়েছিল।
গত ২৫শে জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘জেন জি আমাদেরই সন্তান। তবে কিছু লোক তাদের উস্কে দিয়েছিল। গত ১০ বছরে দেশে প্রায় ২০ কোটি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে।
তাদের ভবিষ্যতের বিশাল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং তারাই ভারতকে বিশ্বগুরু বানাবে। তাই পদের মায়ায় না থেকে আমি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির পর রায়রাখোলের অপর এক জনসভায় ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেডি সভাপতি নবীন পট্টনায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই বিজেপি নেতা। সম্প্রতি বিমানবন্দরে বিজেডি-র যুব ও ছাত্র শাখার ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ফিরে যান’ স্লোগানের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি একজন কৃষকের ছেলে।
আপনারা যতবার ফিরে যেতে বলবেন, আমি ততবারই জনগণের কাছে ফিরে আসব। আমি এমন কোনো কাজ কখনো করিনি যা ওড়িশার সুনাম ক্ষুণ্ণ করে।’ মঞ্চে বিজেডি বিধায়ক ও সাবেক মন্ত্রী প্রসন্ন আচার্যের উপস্থিতিতেই ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট করেন যে, তিনি কোনো বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের তোয়াক্কা না করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে বিজেডি। সম্বলপুর জেলা বিজেডি সভাপতি রোহিত পূজারী বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেউ বদনাম করেনি।
দিল্লিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের সরকার ও পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস চালিয়ে নির্যাতন করেছে, তাতেই তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এখন নিজের ভুল ঢাকতে তিনি নবীন পট্টনায়ককে দোষ দিচ্ছেন।’
এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে সম্বলপুর পুলিশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ৩০ জন বিজেডি কর্মীকে আটক করেছে।