০৯ আগস্ট, ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম বৈষম্য, প্রশাসনিক অবহেলা ও পদোন্নতিহীনতার কারণে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ এখন তুঙ্গে। টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডসহ বিভিন্ন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষক তীব্র হতাশা নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে দেশের সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শিক্ষকদের সূত্রে জানা গেছে, ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত বছর বার্ষিক পরীক্ষার আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। সেই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা আন্দোলন স্থগিত করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারের এই উদাসীনতায় শিক্ষকদের মাঝে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে।
ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা জানান, তাদের উত্থাপিত ৭ দফা দাবি কেবল শিক্ষক সমাজের পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়, বরং ভঙ্গুর মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অপরিহার্য।
শিক্ষকদের মূল ৭টি দাবি হলো:
১. পৃথক মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা: জাতীয় শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষানীতির সুপারিশের আলোকে অনতিবিলম্বে "পৃথক মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর" গঠন ও এর গেজেট প্রকাশ করা।
২. নবম গ্রেডে এন্ট্রি পদ ও পদসোপান: সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকের এন্ট্রি পদটি ১০ম থেকে ৯মে উন্নীতকরণ এবং সরকারি কলেজের ন্যায় ৪ থেকে ৬ স্তরবিশিষ্ট যৌক্তিক একাডেমিক ক্যারিয়ার পাথ প্রণয়ন।
৩. বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পরিশোধ: সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে ২০১৫ সালের পে-স্কেলের আগের প্রাপ্য বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের অর্থ দ্রুত ছাড় করা।
৪. শূন্য পদে নিয়োগ ও নিয়মিত পদোন্নতি: বিদ্যালয়ে বিদ্যমান ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, ৭ বছর পূর্ণ হওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক পদে উন্নীতকরণ এবং বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস-১৯৮১ সংশোধন করে মাধ্যমিকের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের প্রশাসনিক পদে পদায়ন।
৫. সুষ্ঠু ও বাস্তবায়নযোগ্য বদলি নীতিমালা: শিক্ষকদের হয়রানিমূলক বদলি বন্ধ করে একটি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ও বাস্তবমুখী বদলি নীতিমালা দ্রুত কার্যকর করা।
৬. আঞ্চলিক অফিসের স্বকীয়তা ও ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া: আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা এবং উপপরিচালকদের খর্বকৃত আর্থিক ক্ষমতা পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া।
৭. উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে প্রেষণ বাতিল ও পদায়ন: উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে কলেজ শিক্ষকদের প্রেষণে পদায়নের প্রস্তাব বাতিল করে বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মাধ্যমিকের সিনিয়র শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ পদে পদায়ন নিশ্চিত করা।
শিক্ষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে মাউশি কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রদত্ত আশ্বাস বাস্তবায়ন না করলে তারা পুনরায় কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। শিক্ষাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও শ্রেণিকক্ষে ইতিবাচক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে এই ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য তারা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।